‎ইলিশের ভরা মৌসুমেও ভেড়ামারার বাজারে চড়া দাম: সরবরাহ বাড়লেও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

‎ইলিশের ভরা মৌসুমেও ভেড়ামারার বাজারে চড়া দাম: সরবরাহ বাড়লেও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

মাহমুদুল হাসান চন্দন:

‎বর্ষা এলেই শুরু হয় বাঙালির বহুল কাঙ্ক্ষিত ইলিশের মৌসুম। নদী ও সাগরে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বিভিন্ন বাজারেও বেড়েছে এর সরবরাহ। মাছের সারিতে চকচক করছে রুপালি ইলিশের মেলা। বাজারে ইলিশের এই ঝলমলে উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরলেও, দামের উত্তাপে স্বস্তি নেই সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মাঝে। বাজারে গিয়ে দাম শুনেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন অনেকে।

‎রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভেড়ামারার কলেজ বাজার ও মধ্য বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ইলিশের কোনো ঘাটতি নেই। ছোট, মাঝারি থেকে শুরু করে প্রকাণ্ড আকারের ইলিশ সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। তবে সরবরাহ বাড়লেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি দামের ওপর। খুচরা বাজারে আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ৪৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকা ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের মাঝারি ইলিশের দাম ঠেকেছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক প্রকার আকাশকুসুম কল্পনা।

‎বাজারে আসা মধ্যবিত্ত ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভরা মৌসুমে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকার কথা। কিন্তু বাজারে এসে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। সরবরাহ প্রচুর হলেও বিক্রেতারা দাম ছাড়ছেন না। ফলে শুধু চোখ জুড়ানো ইলিশ দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে, ব্যাগে পুরে বাড়ি নেওয়ার সাধ্য হচ্ছে না।

‎ব্যবসায়ীদের দাবি, আড়ত ও মোকাম থেকেই বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। এর ওপর যুক্ত হচ্ছে পরিবহন খরচ ও ঘাটতি। ফলে খুচরা বাজারে কম দামে ইলিশ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

‎সাধারণ ক্রেতাদের মতে, ইলিশের এই কৃত্রিম চড়া দামের পেছনে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি রয়েছে। ভরা মৌসুমেও যেন সাধারণ মানুষ ইলিশের স্বাদ নিতে পারে, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

‎কলেজ বাজারে মাছের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতা শিমুল বলেন, আমি কলেজ বাজারে কেনাকাটা করি। ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে ছোট মাছ নিয়েই ফিরে যাচ্ছি। সংসারের খরচ সামলে এত টাকা দিয়ে মাছ কেনা কঠিন। সবারই মনে চায় ইলিশ মাছ খেতে কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও এত দাম দিয়ে কেনার উপায় নেই।

‎ইলিশ মাছ কিনতে আসা আরেক ক্রেতা জুয়েল রানা তিনি জানান, আমি মাছের বাজারে এসেছি। বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরলাম। এক এক দোকানে এক এক রকম দাম। পরে এক কেজির একটি ইলিশ কিনলাম প্রায় ৩ হাজার টাকা দিয়ে।

‎মধ্য বাজারের ইলিশ মাছ বিক্রেতারা জানান, আমার এখানে ছোট-বড় আকারের কয়েক ধরনের ইলিশ মাছ রয়েছে। দাম বেশি হওয়ার কারণ আড়ত থেকে কেনাই আমাদের বেশি দামে। তারপর সংসার আছে, দোকান ভাড়া আছে সব মিলিয়ে একটু লাভ না করলে আমরা চলবো কি করে।

‎কলেজ বাজারের ইলিশ মাছ বিক্রেতারা বলেন, আমার এখানে এক কেজি সাইজ এবং তার নিচে আরো দুই সাইজের ইলিশ মাছ রয়েছে। এক কেজি বা তার একটু বেশি দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকা, এক কেজির নিচে সাইজ ভেদে দুই হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ছোট আকারের ইলিশ কিনছেন, আবার অনেকে বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে অন্য মাছের দিকে ঝুঁকছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.