জমি বিরোধে ২০ ঘণ্টা বাধার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকের ধানের জমিতেই মিলল আদিবাসী মেনোকার শেষ ঠিকানা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি


জমি সংক্রান্ত বিরোধের নির্মম শিকার হয়ে মৃত্যুর পরও দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা শেষ ঠিকানার জন্য অপেক্ষা করতে হলো এক আদিবাসী নারীকে। স্থানীয় মাতব্বর, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের উপস্থিতিতে দফায় দফায় সালিশ হলেও সমাধান না হওয়ায় অবশেষে মাওনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক তাঁর নিজের নিচু ধানের জমির পানি সেচে দাফনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

​ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে। গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান শ্রী মেনোকা (৬০)। তিনি ওই গ্রামের মান্দাই সম্প্রদায়কভুক্ত গোপালের স্ত্রী।

​নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বসতবাড়ির পাশে শেষকৃত্য ও দাফনের সুবিধার জন্য তারা প্রতিবেশী ছফর উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কিনে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু নামজারি ও রেজিস্ট্রি জটিলতা রয়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে মেনোকার মৃত্যুর পর কবর খননে লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেন ছফর উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

​খবর পেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুপুরের পর থেকে রাতভর কয়েক দফা সালিসি বৈঠক হলেও প্রতিপক্ষের অটল অবস্থানের কারণে কোনো সুরাহা মেলেনি। ফলে সারারাত মৃতদেহের পাশে বারান্দায় বসেই আকুল প্রতীক্ষায় কাটাতে হয় স্বজনদের।

​পরবর্তীতে কোনো উপায় না পেয়ে চরম মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এগিয়ে আসেন মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক। তিনি তাঁর নিজের নিচু ধানের জমি দাফনের জন্য ছেড়ে দেন।

বুধবার সকালে স্বজনেরা সেই জমিতে জমে থাকা পানি সেচে সেটিকে প্রস্তুত করেন এবং মৃত্যুর ২০ ঘণ্টা পর মেনোকার দাফন সম্পন্ন হয়।
​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের উপস্থিতিতেও এমন অমানবিক বাধা প্রদানের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি চরম সংকটে নিজের ধানের জমি দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হকের মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.