
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন ভারারুল এলাকায় পৈতৃক ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ৫২ শতাংশ জমি জবরদখলের চেষ্টা এবং সরকার কর্তৃক জমি অধিগ্রহণের (একোয়ার) বিলের টাকা দাবি করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভারারুল এলাকার বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র রায় (৬০) গাজীপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মো. আসকর আলী (৮০) ও তার ছেলে মনির হোসেন (৪০)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভারারুল মৌজার এসএ-৩৭২ ও ৩৭৬ এবং আরএস-৩৩৯ ও ৩৩৭ নম্বর খতিয়ানভুক্ত এসএ-৬৪৬ ও ৬৪১ এবং আরএস-৬১২ ও ৬১৯ নম্বর দাগে মোট ৫২ শতাংশ জমির মালিকানা গোপাল চন্দ্র রায় ও তার দুই ভাতিজা নকুল চন্দ্র রায় (৩৬) এবং দীপক চন্দ্র রায় (৩০) পৈতৃক ওয়ারিশসূত্রে পেয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি অবৈধভাবে জবরদখলের চেষ্টা করে আসছেন। সম্প্রতি জমির কিছু অংশ সরকার অধিগ্রহণ করায় এর বিপরীতে প্রাপ্য অধিগ্রহণের (একোয়ার) বিলের টাকা ভুক্তভোগীরা উত্তোলন করেন। এরপর ওই টাকা তাদের দিয়ে দেওয়ার জন্য অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী গোপাল চন্দ্র রায় দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসকর আলী ও মনির হোসেন আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে তাদের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা গালিগালাজ করে অধিগ্রহণের বিলের টাকা তাদের দিয়ে দিতে বলেন। একই সঙ্গে জমি ও বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেন।
এতে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা উঁচিয়ে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগীদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় একোয়ারের বিলের টাকা না দিলে মারধর করে জমি ও সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করে জবরদখল করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন গোপাল চন্দ্র রায়। পরে পরিবারের নিরাপত্তা ও জমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গাজীপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
এবিষয়ে জিএমপি সদর মেট্রো থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন জমি জবরদস্তি দখলের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলার অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলমান। তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply