সিমাগো র‍্যাংকিংয়ে ডুয়েটের চমক-গবেষণায় দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে

সিমাগো র‍্যাংকিংয়ে ডুয়েটের চমক-গবেষণায় দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে


​নজমুল হক, স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর

স্পেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা মূল্যায়ন সংস্থা সিমাগো ইনস্টিটিশনস্ র‍্যাংকিং (SCImago Institutions Rankings) ২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এই র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর। বিশেষ করে গবেষণা ক্যাটাগরিতে দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পেছনে ফেলে ডুয়েট শীর্ষস্থান দখল করেছে।

​সিমাগো মূলত তিনটি প্রধান সূচকের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান নির্ধারণ করে: গবেষণা (Research), উদ্ভাবন (Innovation) এবং সামাজিক প্রভাব (Societal Impact)। ২০২৬ সালের তালিকায় বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৭টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গবেষণা ক্যাটাগরিতে (Research Rank) দেশের সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ডুয়েট প্রথম অবস্থানে রয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক তালিকায় ডুয়েটের অবস্থান ১১তম। এই অভাবনীয় সাফল্য ডুয়েটের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারই বহিঃপ্রকাশ।

​ডুয়েটের এই গৌরবময় অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনি এই অর্জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। উপাচার্য বলেন, “সিমাগো র‍্যাংকিংয়ের এই স্বীকৃতি আমাদের দীর্ঘদিনের একাডেমিক সাধনা, গবেষণায় নিবেদন এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার বাস্তব প্রতিফলন। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল গবেষণার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা।”
​উপাচার্য আরও জানান যে, এই রোডম্যাপের আওতায় কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:আন্তর্জাতিক মানের পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশনা বৃদ্ধি।
​শিল্প-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন: তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী গবেষণার ওপর জোর প্রদান।উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবন: মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়ানো।​সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি: ল্যাবরেটরি এবং রিসার্চ লজিস্টিকসের আধুনিকায়ন।

​উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা নয়, বরং জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনের একটি টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলা।” তিনি ডুয়েটকে একটি বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে কারিকুলামের আধুনিকায়ন এবং একাডেমিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।​তিনি এই সাফল্যের কৃতিত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রদান করেন। ডুয়েটের সকল রিসোর্স বা সম্পদকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

​সিমাগো র‍্যাংকিংয়ে ডুয়েটের এই সাফল্য দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। বিশেষ করে গবেষণায় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করা মেধাবী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করবে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা এবং গবেষণায় বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে ডুয়েট আগামীতে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের জন্য আরও বড় সম্মান বয়ে আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। উপাচার্য সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে ডুয়েটকে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.