ঐতিহাসিক হার্ডিং ব্রিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে: ভেড়ামারায় রেলওয়ের সরকারি জমিতে অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব

ঐতিহাসিক হার্ডিং ব্রিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে: ভেড়ামারায় রেলওয়ের সরকারি জমিতে অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব

মাহমুদুল হাসান চন্দন:

‎কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী হার্ডিং ব্রিজ সংলগ্ন রেলওয়ের সরকারি জায়গায় চলছে অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব। সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সাবাড় করছে। ১০ ফুট গভীর করে কাটা এই মাটি বিভিন্ন ইটভাটা ও ভরাট কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ওজনের মাটিবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। ‎

‎২৭ জুলাই (সোমবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার হার্ডিং ব্রিজ সংলগ্ন রেলওয়ের জমিতে বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের আলো ফোটার আগেই গভীর রাত থেকে শুরু হয় মাটি কাটার এই অবৈধ যজ্ঞ, যা চলে সকাল পর্যন্ত।

‎মাটি কাটার এই তান্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই এলাকায় বসবাসরত শেফালী খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত আমাদের বাড়ির সামনে দিয়েই বিকট শব্দে মাটিবাহী গাড়িগুলো যাতায়াত করে। এর ফলে রাতে বাচ্চাদের নিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। মাঠে আমাদের আবাদি জমি রয়েছে, কিন্তু এই গাড়ি চলাচলের কারণে আমরা ঠিকমতো চাষাবাদও করতে পারছি না। প্রশাসনের চোখে কি এগুলো পড়ে না?

‎একই এলাকার ফজর আলী জানান, এত ভারী গাড়ি চলাচলের কারণে এলাকার পাকা রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। গাড়িগুলো সবার সামনে দিয়ে চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

‎উপজেলা মোড়ের বাসিন্দা রাসেল আহমেদ বলেন, আজকেও সকাল ৯টা পর্যন্ত এই অবৈধ মাটিবাহী গাড়ি চলাচল করতে দেখেছি। একদম উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে গাড়িগুলো যাচ্ছে, অথচ উপজেলা প্রশাসন এটা দেখছে না—এটা কেমন কথা?

‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মাটি কাটার সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত রয়েছেন বাহিরচর ইউনিয়নের আমির হোসেনের ছেলে সোহাগ (ওরফে ডন সোহাগ)। এই বিষয়ে জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে (01332358374) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

‎এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি এবং গুরুত্বের সাথে নোট করে রাখছি। সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

‎ঐতিহাসিক হার্ডিং ব্রিজের নিরাপত্তা, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.