ফ্লাইট চালুর প্রথম দিনেই দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮

ফ্লাইট চালুর প্রথম দিনেই দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮

প্রতিবেদক: মোঃ রাকিব হোসেন

​সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর দাম্মামের ‘কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে’ একটি ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। টানা দুই সপ্তাহ ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার পর বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু হওয়ার প্রথম দিনেই এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত ১ জন নিহত এবং ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।


​বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে বলে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (GACA) নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর পৃথক প্রতিবেদনে হতাহতের এই পরিসংখ্যান উঠে আসে।

​আহতদের অবস্থা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি।

​সৌদি স্বাস্থ্য বিভাগের বরাতে জানানো হয়েছে, আহত আটজনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁদের নিকটস্থ বিশেষায়িত হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। হামলার শক্তি ও বিস্ফোরণের তীব্রতায় বিমানবন্দরের মূল টার্মিনালের একাংশ, পারকিং এরিয়া এবং রানওয়ের পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু স্পর্শকাতর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী দল ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত মাত্রা নিরূপণে সমন্বিত অনুসন্ধান চালাচ্ছ।

​ফ্লাইট চলাচলে অচলাবস্থা ও যাত্রী আতঙ্ক।

​দীর্ঘ দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ২১ অক্টোবর বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাত্রী নিয়ে বিমানবন্দরটি স্ব স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছিল। কিন্তু প্রথম দিনেই এই হামলার পর পুরো বিমানবন্দর এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা Flightradar24 জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরে অবতরণমুখী বেশ কিছু অন্তর্মুখী ফ্লাইটকে আকাশপথেই ঘুরিয়ে ডাহরান ও রিয়াদের বিকল্প বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি বহির্গামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

​হামলার নেপথ্যে হুথি বিদ্রোহীরা ও পূর্ববর্তী হামলার ইতিহাস।

​ইয়েমেনভিত্তিক সামরিক গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সীমান্ত এলাকা ছাড়াও পূর্বাঞ্চলীয় তেল সমৃদ্ধ দাম্মাম, আবহা ও জাজান বিমানবন্দর তাদের মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
​সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দাম্মামের এই বিমানবন্দরটি এর আগেও একাধিকবার হুথি বিদ্রোহীদের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সুইসাইড ড্রোনের নিশানা হয়েছিল:

​পূর্বের হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি: এর আগের বিভিন্ন হামলায় বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত সামরিক ও বেসামরিক কর্মীসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হন। গত বছরের শেষভাগে ও চলতি বছরের শুরুতে হওয়া হামলাগুলোতে অন্তত ৩ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ডজনখানেক লোক আহত হয়েছিলেন।

​ভৌত ও অর্থনৈতিক আঘাত: পূর্ববর্তী হামলাগুলোতে রানওয়ে এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) টাওয়ার সাময়িক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করেছিল।
​বারংবার একই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলা চালানের ঘটনায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) এবং কৌশলগত অবকাঠামোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

​সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া৷

​হামলার পর পরই দাম্মামসহ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের সমস্ত স্পর্শকাতর সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা (Red Alert) জারি করা হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জিসিসি (GCC) জোটের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সাথে, হামলার ধরন, ব্যবহৃত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ করে বিস্তারিত তথ্য খুব শীঘ্রই গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
​তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ সংস্থা Flightradar24 এবং সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (GACA)

Leave a Reply

Your email address will not be published.