মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী:বিষয়টি ভেবে দেখুন- 

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী:বিষয়টি ভেবে দেখুন- 

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীঃ

   ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এখন চরম অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা এখন পুরোপুরিভাবে আতঙ্কগ্রস্ত। তাদের আতঙ্কের মূল কারণ হলো আকস্মিকভাবে তাদের উপর নির্দিষ্ট সময়ের তিন মাস আগে এসএসসি পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলো, ২০২৬ সালে দুইবার এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন, ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর তাঁর এই ঘোষণার পর পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার আমেজ দেখা যাচ্ছে। তাই এই প্রসঙ্গে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখার জন্য। 

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী নবম শ্রেণির প্রথম দুই মাসে তেমন লেখাপড়া হয় না। স্কুলে নতুন ছাত্র ভর্তি, ফর্ম বিতরণ, বার্ষিক বনভোজন- এসব অনুষ্ঠান পালন করতে করতে  জানুয়ারি মাসটা কেটে যায়। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে থাকে স্পোর্টস। ১০/১২ দিন ধরে একটানা প্রাকটিস ও বাছাই পর্ব, তারপর ফাইনাল, ফাইনালের পর সঙ্গত কারণে স্কুল দুইদিন ছুটি- এভাবে ফেব্রুয়ারি মাসটাও কেটে যায়। আর বর্তমানে কয়েক বছর ধরে রোজা এগিয়ে এসেছে। এখন ফেব্রুয়ারি মাসেই রোজা শুরু হয়। ফলে পুরো মার্চ মাস রোজার ছুটি এবং ঈদুল ফিতরের ছুটির জন্য মার্চ মাসও পার হয়। এসব কারণে স্কুলগুলোতে লেখাপড়া শুরু হয় এপ্রিল মাসে অর্থাৎ আবার কোরবানির ঈদের ছুটি, দুর্গা পূজার ছুটি, আরও অনেক ধরনের ছুটি মিলিয়ে বছরের প্রায় চার মাস মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেখাপড়া একেবারেই হয় না।

ঈদুল ফিতরের ছুটির পরে স্কুল খুললে সময় স্বল্পতার কারণে শিক্ষকগণ তাড়াহুড়ো করে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করার প্রতিযোগিতায় নামেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বেশিরভাগ স্কুলের শিক্ষকগণ একটা অধ্যায়ের সামান্য কিছু আলোচনা করেই পুরো অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এই কাজে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী গণিত শিক্ষকগণ। একটা অনুশীলনীতে যদি ৩০টি অংক থাকে, শিক্ষক বিভিন্ন জায়গা থেকে তিনটি অংক করিয়ে অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। বাকি অংকগুলো বাসা থেকে করে নিয়ে আসতে বলেন। 

এই চিত্র বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সত্য। আর এটা ওপেন সিক্রেট হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। আপনিও এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন নাই। এবার শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর আপনি শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয়ের উপর দৃষ্টিপাত করলেও এই ব্যাপারে আপনার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নাই। 

তাহলে একবার ভেবে দেখুন, যেখানে বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষে লেখাপড়া নাই। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে, তারা এখন প্রিটেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য আংশিক সিলেবাসের উপর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নভেম্বর মাসে তারা টেস্ট পরীক্ষা শেষ করে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। হঠাৎ করে যদি আপনি এসএসসি পরীক্ষা তিন মাস এগিয়ে আনেন। তাহলে তাদের মানসিক অবস্থা কিরূপ হবে– একবার ভেবে দেখুন।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনার ঘোষণার পর থেকে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যে নিয়ম অনুযায়ী তারা তারা লেখাপড়া করে আসছে, হঠাৎ করে সেটা বদলে গেছে। আপনি তাদের উপর পাহাড় সমান এক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। তাই আপনাকে অনুরোধ করছি, দয়া করে আরেকবার ভাবুন। আপনার যদি এই নিয়ম চালু করতেই হয়, তাহলে যারা এখন নবম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে, তাদের থেকে এই নিয়ম চালু করুন। কারণ তাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে, তারা সেইভাবে সিলেবাস ভাগ করে নিতে পারবে।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনার নিকট ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে বিনীত প্রার্থনা জানাই, এবছরের জন্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উপর থেকে আপনার কঠোর সমন প্রত্যাহার করুন। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ২০২৭ সালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যবস্থা করুন। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মাথার উপর থেকে কঠিন বোঝা সরিয়ে নিন। আপনি যে ব্যবস্থা চালু করতে চাচ্ছেন, আমি তার বিরোধিতা করছি না। শুধু আপনার সমীপে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আপনার সুচিন্তিত পরিকল্পনা পর্যাপ্ত সময় দিয়ে বাস্তবায়ন করুন। তাহলে ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবক মহল আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। আপনার সুচিন্তিত পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন করবে।

মনজুর রহমান শান্ত 

নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, অনুবাদক 

Leave a Reply

Your email address will not be published.