
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে একটি যৌথ সম্পত্তিতে জোরপূর্বক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই জমির ওপর থাকা ১৪টি দোকানের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে গাজীপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নালিশি ভূমিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জমি পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়ে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। তবে ভুক্তভোগী মোস্তফা কামালের অভিযোগ, আদালতের এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করে ওই রাতেই (১৬ জুলাই) আনুমানিক রাত ১১টার পর তাঁর প্রয়াত বড় ভাই শহিদুল্লাহ শহিদের সাবেক স্ত্রী শাহীন সুলতানা সুইটি এবং তাঁর ২০-২৫ জনের একটি সহযোগী দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সেখানে থাকা ১৪টি দোকান ভাঙচুর করে। ঘটনার পরপরই মোস্তফা কামাল জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা চান। পরদিন ১৭ জুলাই বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
মোস্তফা কামাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে অংশে ভাঙচুর করা হয়েছে, তা আমার অংশ এবং আমি দীর্ঘদিন ধরে এগুলো ভোগদখল করছি। কারও জায়গা পাওনা থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় আসুক, এভাবে ভাঙচুর করে আদালত অবমাননা করেছে, এর বিচার হওয়া দরকার।
এদিকে হঠাৎ দোকানপাট বন্ধ ও মালামাল নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আসিফ নুরুজ্জামান ও রবিউল করিম জানান, তাঁরা ১৪ জন ব্যবসায়ী গত ৫-৬ বছর ধরে মোস্তফা কামালকে জামানত দিয়ে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রতিদিন তাঁদের কিস্তি দিতে হয়।ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘মালিকপক্ষের পারিবারিক দ্বন্দ্বে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আমাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়া ও ভাঙচুর করায় আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরা চাই প্রশাসন এর সঠিক সমাধান করুক। আমাদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হোক, মালিকপক্ষ আইনিভাবে সমাধান করে আসুক। আইনি প্রক্রিয়ায় যে মালিকানা পাবে, আমরা তাকেই ভাড়া বুঝিয়ে দেব’।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহীন সুলতানা সুইটির যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি!
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামিউল জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই বিরোধপূর্ণ জায়গায় উভয় পক্ষকে সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আইনি সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply