
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পুরো পরিবারকে হত্যার ঘটনা এখন দেশ জুড়ে আলোচনায়। গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন। শিগগিরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অদিত করের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তারিখ চূড়ান্তও করা হয়। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আগামী চক্রবর্তী পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে মারা গেলেন।
অদিতের এক বন্ধু জানিয়েছেন, আগামী চক্রবর্তী ও অদিতের বিয়ে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কথাও হচ্ছিল। কিন্তু এমন ঘটনায় অদিত হতবাক। সেই বন্ধু বলেছেন, অদিত কর হবু স্ত্রীকে হারিয়ে ‘ট্রমাটাইজড, তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব বুঝতেছি না। কদিন আগে অদিতের বাবা মারা গেছেন। এখন হবু স্ত্রী মারা গেলেন।
এদিকে অদিত কর নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে আগামীর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল। এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বলল সেদিন ‘আমরা তো কখনো কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি। চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সাথে ছিলাম, আছি, থাকব।
শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার রাতে বাসায় গিয়ে চারটি মরদেহ পায় পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে শেষ কথা বলেছিলেন তার মাসি পূজা চক্রবর্তী। তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। পূজা চক্রবর্তীই শনিবার রাতে আবার তার বড় বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাদের পরিবারের খোঁজ নিতে আসেন। আর তখনি তিনি জানতে পারেন পরিবারের সবাইকে খুন করা হয়েছে।

Leave a Reply