
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী গাজীপুরে মাদক বিস্তার রোধ, চাঁদাবাজি ও অপরাপর অপরাধ দমনে দৃশ্যমান, সর্বাত্মক ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং গাজীপুর জেলার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দল নেই; এমনকি নিজ দলের কেউ অপরাধে জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিনসহ জেলার অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রধান ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ও জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণ।
সভার শুরুতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাজিব হাসান বিগত মাসের আইনশৃঙ্খলার চিত্র তুলে ধরেন। সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, গরু চুরি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, সার মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতার মতো বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। এছাড়াও সভায় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আলোচিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার টঙ্গীর বিখ্যাত মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত মাজার বস্তিতে পরিচালিত দীর্ঘদিনের অভিযানের বর্ণনা দেন। রাজউকের জমিতে গড়ে ওঠা এ অবৈধ বস্তিটি মাদকের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হওয়ায় পুলিশকে নানা বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে অভিযান চালাতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সেখানে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও সমাধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, বর্তমান সরকারের মূল নীতি হলো “আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাদকের ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর মনোভাব পোষণ করেন। দেশ থেকে যে কোন মূল্যে মাদক নির্মূলে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিসহ জেলার প্রতিটি অপরাধপ্রবণ এলাকায় দৃশ্যমান ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে সবসময় সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে সবার নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। দুর্ঘটনা ঘটলে যেন মামলা দায়ের হয় এবং নিহতদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন বিনা হয়রানিতে দ্রুত সরকারি আর্থিক অনুদান ও আইনি সহায়তা পায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
একটি মানবিক ও স্থিতিশীল জেলা গঠনে সকল বিভাগকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী সভায় প্রতিটি বিভাগের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য তিনি জেলার সকল বিভাগের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী সভায় কার কি দায়িত্ব ছিল, কে কতটুকু পালন করেছেন, কেন পালন করতে পারেননি, তার স্থলে কাকে দিলে দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করা যাবে-এসব বিষয় আমরা যাতে বুঝতে পারি, সেভাবে কাজ করুন।
সভার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতে প্রশাসনকে কাজ করার জন্য উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হতো। বর্তমানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কাজ করছে। তাই আমরা ইনশাআল্লাহ আগামী সভার আগেই আজকের সভায় গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

Leave a Reply