
স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ রেজাউল হক কুড়িগ্রাম:-
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে জাহেদুল ইসলাম জিন্নাত (৪৫) হত্যাকাণ্ডের পর হত্যায় অভিযুক্তদের বাড়িঘর লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির দরজা-জানালা, ঘরের টিন, কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল খুলে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাছপালা কেটে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, জিন্নাত হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাতের আঁধারে হত্যায় অভিযুক্তদের বাড়িঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি এখনো রাতের বেলায় লুটপাটের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, বাড়িঘর থেকে টিন, দরজা-জানালা, কাঠসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী খুলে নিয়ে গেছেন। বাড়ির আশপাশের গাছপালাও কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাড়িগুলো অনেকটা অরক্ষিত ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধভাবে এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশের বাড়ির কেউ বাধা দিতে গেলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
এ ঘটনায় লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে পিটিশন মামলা বিজ্ঞ আদালতে আনায়ন করেন, যাহা তদন্তহীন রহিয়াছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলার পর অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় ও স্বজনদের ভাষ্য, জিন্নাত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, আইনের মাধ্যমে বিচার হবে, কিন্তু অভিযুক্তদের বাড়িঘরে লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
লুট হওয়া বাড়ির স্বজনরা জানান, ভাংচুর লুটপাট চালিয়ে মোট ৩০ টি ছোট বড় বিভিন্নজাতের গরু, ১৩ টি ছাগল, প্রায় ৭০০ মন ধান, ২৫ ভরি স্বর্নালংকার, ১টি মোটর সাইকেল ১২৫ সিসি, ১২ টি ফ্রিজ, ২৬টি সিলিং ফ্যান, ২টি সেচ পাম্পসহ চেয়ার টেবিল, ইস্টিলের দরজা ও কাঠের দরজা জানালা, গ্যাসের চুলা, সুকেজ, আলমারী, টিউবওয়েল, হাড়ি পাতিল, আসবাবপত্র চুরি করিয়া লইয়া যায়। এছাড়াও আসামীগন বাদী ও তাহার ভাগিশরীকগনের ১২ টি টিনের ঘর ও ইট দিয়ে ওয়ালকরা ৩০ টি ঘরসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করিয়া আনুমানিক ৩ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করে। বর্তমানে বাড়িগুলো অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তা যেন আর লুট করা না হয়। এ কারণে বাড়িঘরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তাদের দাবি, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং লুটপাট, ক্ষয়ক্ষতির এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী আর যেন লুটপাট না করা হয়।
এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply