
প্রতিবেদক মোঃ রাকিব হোসেন
সৌদি আরবের তায়েফে একটি সংগীত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েও মঞ্চে উঠতে পারেননি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারভেজ খান। সৌদি আরবের ইমিগ্রেশনে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা অবস্থানের পর তাকে ফিরতি টিকিটে বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পারভেজ খান। তার বক্তব্য অনুযায়ী,ভিসা আপডেট না থাকায় সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারেননি তিনি।
পারভেজ খান জানান, ১০ সেপ্টেম্বর তায়েফে আল আয়াত গ্রুপ অব কোম্পানির আয়োজনে একটি অনুষ্ঠানে তার গান পরিবেশনের কথা ছিল। এ জন্য স্ত্রী, ব্যান্ডের সদস্য ও অন্যান্য শিল্পীদের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।তার দাবি, সঙ্গে থাকা স্ত্রী, ব্যান্ড সদস্য ও অন্যান্য শিল্পীরা সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারলেও ইমিগ্রেশনে গিয়ে আটকে যান তিনি। সেখানে তাকে জানানো হয়, তার আগের ভিসা আপডেট করা হয়নি। ফলে ওই ভিসা দিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ নেই।কিন্তু সৌদি আরব যাওয়ার আগে ভিসাটি আপডেট করা হয়েছিল কি না—এখানেই তৈরি হয় মূল প্রশ্ন।পারভেজ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে সৌদি আরবের একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় ‘শান্ত’ নামে এক ব্যক্তি তার ভিসার ব্যবস্থা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আবার সৌদি আরব যেতে হলে আগের ভিসা আপডেট করতে হবে বলে তাকে জানান শান্ত।
পারভেজ খান বলেন, ভিসা আপডেটের জন্য শান্তকে তিনি টাকা পাঠান। এরপর ভিসার অবস্থা জানতে চাইলে তাকে নিশ্চিত করা হয় যে ভিসা আপডেট করা হয়েছে এবং তিনি সৌদি আরব যেতে পারবেন।সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশনে গিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি করেন পারভেজ খান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার ভিসা আপডেট করা হয়নি।
এরপর সৌদি আরবে অবস্থান করেই শান্তর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন পারভেজ খান। তার দাবি, তখন বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস দেওয়া হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
এদিকে অনুষ্ঠানের আয়োজকরাও বিষয়টি জানতে পেরে বিমানবন্দরে আসেন বলে জানান পারভেজ খান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আল আয়াত গ্রুপ অব কোম্পানির পক্ষ থেকে তাকে সৌদি আরবে প্রবেশ করানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ইমিগ্রেশনে অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে ফিরতি টিকিটে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে জানান তিনি।
ঘটনার আরেকটি দিকও সামনে আসে। পারভেজ খানের স্ত্রী তার সঙ্গে সৌদি আরব গেলেও ইমিগ্রেশন পার হয়ে দেশটিতে অবস্থান করেন। পারভেজের বক্তব্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী ও দলের অন্য সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অন্যদিকে তাকে একাই বাংলাদেশে ফিরে আসতে হয়।
এ ঘটনায় শান্ত নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢাকার পল্টন থানায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন পারভেজ খান।
এ বিষয়ে পল্টন থানার ওসি আরফুল ইসলাম আরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, পারভেজ খানের মোবাইলে থাকা কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান থাকায় ভিসা আপডেটের পুরো প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা ছিল, সেটি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।অন্যদিকে, শান্তর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ঘটনার বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।ফলে এখন সামনে আসছে আরও একটি প্রশ্ন—ভিসা আপডেটের বিষয়টি কেন সম্পন্ন হয়নি? টাকা নেওয়ার পরও কেন পারভেজ খানকে ভিসা আপডেট হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছিল?আর যদি তদন্তে ইচ্ছাকৃত গাফিলতি বা প্রতারণার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে এর পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে এটি একটি প্রশ্ন মাত্র; তদন্তের আগে কাউকে এ ঘটনায় জড়িত বলা যাচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পারভেজ খানকে অনুষ্ঠানে আনার কথা বলে আয়োজকরা প্রতারণা করেছেন—এমন আলোচনা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। তবে পারভেজ খান আয়োজকদের দায়ী না করে বলেন, তাকে সৌদি আরবে নেওয়ার জন্য আল আয়াত গ্রুপ অব কোম্পানির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি নিজের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবেশ করতে না পেরে তাকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হয়েছে।এখন তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে—ভিসা আপডেটের ক্ষেত্রে আসলে কোথায় সমস্যা হয়েছিল, কার দায়িত্বে বিষয়টি ছিল এবং পারভেজ খানকে দেওয়া আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য কেন তৈরি হয়েছিল।ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারও ইচ্ছাকৃত ভূমিকা ছিল কি না—তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

Leave a Reply