
মাহমুদুল হাসান চন্দন
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় চাঞ্চল্যকর মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন তমা (২৬) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত তমার সাবেক স্বামীসহ দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ফারহানা ইয়াসমিন তমা ভেড়ামারা থানাধীন ফকিরারবাদ গ্রামের মোঃ তোজাম্মেল হকের মেয়ে। গত ১৫ মে ২০২৩ তারিখ সকালে তমা গোলামনগর বাজারের একটি বিউটি পার্লারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি এবং তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ওই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার আউড়ের বিলের মোড় এলাকায় রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পরিবারকে খবর দেয়।
তমাকে প্রথমে স্থানীয় বাজার ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরে ওই দিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তমার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ও ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং নিবিড় তদন্তের পর পুলিশ ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং এজাহারনামীয় দুই আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—তমার সাবেক স্বামী মোঃ আবু বকর সিদ্দিক (২৯) এবং তাদের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার মধ্যস্থতাকারী মোঃ রাসেল আলী (৩১)।
পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ৩ মাস পূর্বে আবু বকর সিদ্দিকের সাথে তমার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের জন্য রাসেল আলী মধ্যস্থতা করতে আসেন এবং একপর্যায়ে রাসেলের সাথে তমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন রাতে রাসেলের ডাকে সাড়া দিয়ে তমা ফকিরারবাদ বাজারে দেখা করতে যান। পরে রাসেলের মোটরসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় আউড়ের বিলের মোড়ে তমা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং জ্ঞান হারান। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামী রাসেল তাকে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ভিকটিমকে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হতে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave a Reply