জীবন যুদ্ধ জয় করে যেভাবে সফল উদ্যোক্তা হলেন বুবলি

জীবন যুদ্ধ জয় করে যেভাবে সফল উদ্যোক্তা হলেন বুবলি

আশিকুর রহমান সবুজ,গাজীপুর প্রতিনিধি
‎
‎যে বয়সে বাবার হাত ধরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার কথা, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সেই বাবাকে হারান বিলকিস খাতুন বুবলি। অভাব-অনিশ্চয়তার মধ্যে গ্রামের এক খালাম্মার কাছে শেখেন সেলাইয়ের কাজ। একসময় সেই দক্ষতাই তাঁকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখায়। আজ নিজের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি।
‎
‎কুড়িগ্রাম পৌরসভার পূর্ব কল্যাণ গ্রামের মৃত শাহ আলমের মেয়ে বুবলি বর্তমানে স্বামী-সন্তান নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করেন। নিজের ভাড়া বাসায় মেয়ের নামে গড়ে তুলেছেন ‘ফাতেমা টেইলার্স এন্ড ট্রেনিং সেন্টার’। ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ নারীকে বিনা মূল্যে সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
‎
‎বুবলির কাছ থেকে কাজ শিখে জীবনে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন লিমা বেগম। প্রায় নয় বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর বুবলির আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ পান তিনি। পরে পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়ে সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।
‎
‎লিমা বলেন, ‘বুবলি আপা আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন, কাজ শিখিয়েছেন। এখন চাকরি করে সন্তান নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। পাশাপাশি কাজ শিখছি, যেন ভবিষ্যতে তাঁর মতো উদ্যোক্তা হতে পারি।’
‎
‎প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেছেন শিরিন বেগম ও সাথী আক্তারও। প্রায় আট বছর আগে সেলাই শেখা শিরিন এখন নিজের ভাড়া বাসায় কাপড়ের ব্যবসা করছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে ঘরে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার কাপড় রয়েছে। আর প্রায় সাত বছর আগে প্রশিক্ষণ নেওয়া সাথী বুবলির প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে ব্যবসা করছেন।
‎
‎অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবী লাকি বেগম নিজের কাপড় নিজে তৈরির জন্য সেলাই শিখছেন। নতুন প্রশিক্ষণার্থী বৃষ্টির স্বপ্নও উদ্যোক্তা হওয়ার।
‎
‎বুবলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর মাসিক আয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। সব খরচ বাদে থাকে প্রায় এক লাখ টাকা। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
‎
‎তবে আরও বেশি নারীকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজন সেলাই মেশিন, উপকরণ ও আর্থিক সহযোগিতা। সরকারি সহায়তা কিংবা সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ পেলে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
‎
‎বুবলির প্রত্যাশা, অর্থের অভাবে কোনো নারী যেন কাজ শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন। যে সেলাইয়ের কাজ একদিন তাঁকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে, সেই দক্ষতাই এখন অন্য নারীদের জীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরির মাধ্যম হয়ে উঠুক-টাই তাঁর স্বপ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.