ভেড়ামারায় কসাইখানা নেই, যত্রতত্র পশু জবাইয়ে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকিতে

ভেড়ামারায় কসাইখানা নেই, যত্রতত্র পশু জবাইয়ে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকিতে

মাহমুদুল হাসান চন্দন, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া):

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভায় নির্ধারিত কসাইখানা না থাকায় বিভিন্ন বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় যত্রতত্র পশু জবাই করছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, অন্যদিকে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মাংসের নিরাপদতা নিশ্চিত করা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশদূষণ রোধে ভেড়ামারা পৌর এলাকায় দ্রুত একটি আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কসাইখানা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

‎‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারা পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা হয়। নির্দিষ্ট জবাইখানা ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় পশুর রক্ত, বর্জ্য ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট যত্রতত্র পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করা না হলে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে।

‎বিশেষ করে বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বর্জ্য অপসারণ এবং জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এসব ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা হলে রোগাক্রান্ত পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

‎পশু জবাইয়ের আগে ও পরে যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা নিরাপদ মাংস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু নির্ধারিত কসাইখানা না থাকলে এসব কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

‎এ অবস্থায় ভেড়ামারা পৌরসভায় আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের পাশাপাশি পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা, বর্জ্য অপসারণ এবং নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন নাগরিকেরা।

‎মাংসের নিরাপদতা নিশ্চিত করা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। নির্ধারিত স্থানে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের দাবি:

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: তারেক হাসান বলেন, পৌরসভার মধ্যে একটি কসাইখানা থাকা খুবই জরুরি। নির্দিষ্ট কসাইখানা থাকলে পশু জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। যত্রতত্র পশু জবাই করা ঠিক নয়। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। বিষয়টি নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।

‎স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল খান বলেন, বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য ঠিকমতো পরিষ্কার করা না হলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিক।

‎‎স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাংস মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার। তাই পশু জবাইয়ের আগে সেটি সুস্থ কি না, তা পরীক্ষা করা দরকার। নির্ধারিত কসাইখানা থাকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু জবাই ও মাংস বিক্রি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আনজুর আলী বলেন, শুধু কসাইখানা নির্মাণ করলেই হবে না, সেখানে নিয়মিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান চাই।

‎ভেড়ামারা পৌরসভায় একটি আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করা হলে পশু জবাই কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট স্থানের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তদারকি করা সহজ হবে। পাশাপাশি বাজারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

‎কসাইখানা নির্মাণের পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

‎‎এখন প্রশ্ন—জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ভেড়ামারা পৌরসভায় একটি নির্ধারিত কসাইখানা নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কবে দৃশ্যমান হবে? এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.