
মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি, অনিয়মের প্রতিবাদে এবং তার অপসারণ দাবীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা। রবিবার দুপুরে মোংলা কাস্টমস হাউসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। পরে অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেয়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ওই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, অনৈতিক সুবিধা আদায় এবং বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অপসারণের দাবী জানান তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজের ক্যাপ্টেনদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ডলার, হুইস্কি ও সিগারেট আদায় করেন মামুন। পরে এসব সামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগও তোলা হয়েছে। এছাড়া জাহাজের আগমন সংক্রান্ত তথ্য ও ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইজিএম শাখায় অনিয়ম, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং অনৈতিক সুবিধা দাবী করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবী, বৈধ পণ্য খালাস করতে আসা ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপ চ্যােন্ডলারদের বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়। নতুন ভেন্ডার লাইসেন্স পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেয়া এবং অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্টদের হুমকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভকারীরা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে মোংলা বন্দরের ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন ব্যবসায়ীরা বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্ষতির মুখে পড়বে। বন্দরের সুনাম ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
এ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শিপিং ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, নুরউদ্দিন টুটুল, কামাল হোসেন, মোঃ শামিম, মোঃ ইউসুফ, মোঃ সেলিম, মোঃ মামুন ভুইয়া, মোঃ সুমন মল্লিক, মোঃ আল-আমিন, মোঃ বেল্লাল হোসেন, মোঃ মহসিন পাটোয়ারী, মোঃ সোহাগ ও মোঃ রাজ বাপ্পা।
বক্তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে কাস্টমস কমিশনার মোঃ গিয়াস কামালের সাথে দেখা করে তার বরাবর স্মারকলিপি দেন ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোঃ গিয়াস কামাল ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগগুলোর তদন্ত করে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply