
মাহমুদুল হাসান চন্দন:
বাংলাদেশের প্রথম ও অন্যতম বৃহত্তম আধুনিক সেচ ব্যবস্থা জিকে সেচ প্রকল্পের (গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প) পানি সরবরাহ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় অবস্থিত এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো পদ্মা (গঙ্গা) নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া। বর্তমানে প্রধান ৩টি পাম্প মেশিনের মধ্যে ২টি সচল থাকায় এবং নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন চার জেলার লাখো কৃষক।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে।
২১ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সকালে সরেজমিনে পাম্প স্টেশনটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, এর ২ নম্বর পাম্প মেশিনটি সম্পূর্ণ সচল রয়েছে এবং পানি সরবরাহ স্বাভাবিক গতিতে চলছে।
জিকে পাম্প স্টেশনের যান্ত্রিক সংরক্ষণ ও বিভাগ উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: মিজানুর রহমান জানান, কিছুদিন আগে জার্মানি থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে পাম্পগুলো মেরামত করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে দুটি মেশিন সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, অতীতে পদ্মা নদীতে পানির স্তর নিচে নেমে গেলে কিংবা বিকল্প পাম্প না থাকায় একটি মেশিন নষ্ট হলে সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেত। তবে এবার ব্যাক-আপ হিসেবে দুটি মেশিন থাকায় একটিতে ত্রুটি দেখা দিলেও অন্যটি দিয়ে সেচ কার্যক্রম সচল রাখা যাবে। এছাড়া, এলাকাবাসীর জন্য বড় সুখবর হলো—পুরাতন পাম্প স্টেশনটি পুনরায় চালু করার জন্য জোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা খুব দ্রুতই চালু হবে। এটি চালু হলে সারা বছরই নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচের পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এদিকে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উপকারভোগী কৃষকেরা। প্রকল্পে পানি পাওয়ায় তাদের বোরো ও আমন চাষে খরচ ও দুশ্চিন্তা দুই-ই কমেছে।কৃষক মো. রহমত আলী বলেন, আগে একটা মেশিন নষ্ট হইলেই আমাদের চাষবাস বন্ধ হয়ে যেত, পানির জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকা লাগত। এবার শুনছি পার্টস এনে দুইটা মেশিন ভালো করা হইছে। এখন ঠিকমতো পানি পাচ্ছি, আশা করি এবার ধানের ফলন খুব ভালো হবে।
কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিজেল আর শ্যালো মেশিনের চড়া দামের কারণে আমরা চাষ করতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। জিকে খালের পানি আসায় আমাদের খরচ অনেক কমে গেছে। তবে খালের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যেন পানি সমানভাবে পৌঁছায়, সেই দিকে কর্তৃপক্ষের নজর রাখা দরকার।
কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, শুনলাম কর্মকর্তারা নাকি পুরান পাম্প স্টেশনটা আবার চালু করার উদ্যোগ নিছে। এটা যদি সত্যিই চালু হয়ে যায়, তবে আমাদের বারো মাসের পানির চিন্তা দূর হবে। সারা বছর পানি পাইলে আমরা আমন আর বোরো ধান কোনো রকম টেনশন ছাড়াই ঘরে তুলতে পারব।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভালো যন্ত্রাংশের মাধ্যমে বর্তমান পাম্প সচল রাখা এবং বন্ধ থাকা পুরাতন স্টেশনটি দ্রুত চালু করতে পারলে দেশের অন্যতম প্রধান এই সেচ প্রকল্পটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

Leave a Reply