নজমুল হক, গাজীপুর
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুলের যুগ্ম-পরিচালক রশিদুল গনির অবসর উপলক্ষে এক আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা ৪মে সোমবার বিকাল ৩:০০টায় উপাচার্যের দপ্তরের কনফারেন্স লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর শেষ কর্মদিবস আগামীকাল ৫ মে ২০২৬।
সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুলের ডিন অধ্যাপক তানভীর আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ” অল্প সময়ের পরিচয় হলেও সহকর্মীদের অভিমত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জনাব রশিদুল গনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও হৃদয়বান কর্মকর্তা। উপাচার্য বলেন, আজকের এই আয়োজনটি রাশিদুল গনি সাহেবকে বিদায় জানানোর জন্য, যিনি তিন দশকেরও বেশি সময় বাউবিতে বিভিন্ন দপ্তরে সেবা দিয়েছেন, এবং বিদায়ের সময়ে সহকর্মীদের ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়া একজন মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন আয়োজন শুধু বিদায়ী ব্যক্তিকেই নয়, উপস্থিত সকলকে সম্মানিত করে এবং অন্যদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ তৈরি করে। রাশিদুল গনি সাহেব অবসর জীবনে পরিবার ও নিজের জন্য সময় দেবেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবেন। তিনি ডিন, ফ্যাকাল্টি সদস্য ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে সকলের সুস্থ, নিরাপদ ও আনন্দময় জীবন কামনা করেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সততা ও মানবিক গুণাবলি সহকর্মীদের মাঝে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে”।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন এবং প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি. এম. আহমেদ হুসেইন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে তাঁরা জনাব রশিদুল গনির কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু মোঃ রশিদুল গনি তাঁর বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি সহকর্মীদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন। সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুল আয়োজিত অনুষ্ঠানে একপর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ তিন দশকের অধিক কর্মজীবনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উপাচার্য মহোদয়ের হাত থেকে তাঁকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং ফুলেল শুভেচ্ছায় ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানটি একদিকে ছিল প্রাপ্তির গর্বে উজ্জ্বল, অন্যদিকে প্রিয় সহকর্মীকে বিদায় জানানোর বেদনায় ছিল গভীর আবেগঘন—যা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply