জিন্নাত হত্যার খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসক কার্যলয়ে বিশাল মানববন্ধন

জিন্নাত হত্যার খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসক কার্যলয়ে বিশাল মানববন্ধন

​স্টাফ রিপোর্টার,মোঃ রেজাউল হক কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সরকারি রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে নির্মমভাবে খুন হওয়া জাহেদুল ইসলাম জিন্নাত (৪৫)-এর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব সহ জেলা প্রশাসক কার্যলয়ের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার সহ এলাকাবাসী। বরিবার ১৯ জুলাই ২০২৬ইং দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে নিহতের আত্মীয়-স্বজন, রাজারহাটের উমর মজিদ ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এলাকাবাসী
​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উমর মজিদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ডাংঘাট গ্রামে একটি সরকারি রাস্তা সংস্কার ও জনসাধারণের চলাচল নিশ্চিত করার মহৎ উদ্যোগে শামিল ছিলেন জিন্নাত আলী। কিন্তু এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও প্রতিপক্ষ জয়নাল গ্রুপ পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র ও শাবল দিয়ে তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নিরীহ এই জিন্নাত আলি।

​বক্তারা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কয়েকজনকে আটক করলেও মূল পরিকল্পনাকারী ও খুনিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। আসামিদের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে যেন মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

​মানববন্ধনে জিন্নাত আলীর স্ত্রী ও সন্তানরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা আর্তনাদ করে বলেন, “তিনি আমাদের জমিতে চাষ কতরে গিয়েছিলেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো কেন? আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই। অবিলম্বে প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”

​জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান
​বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে খুনিদের ফাঁসি নিশ্চিত করা। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা প্রদান এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

​স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। রাজারহাট থানা পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published.