
মাহমুদুল হাসান চন্দন
তীব্র লোকবল সংকট, সঠিক তদারকির অভাব এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ভবন মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা এলাকায় গড়ে উঠছে এক অপরিকল্পিত নগরী।
আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পৌরসভার আইন ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন অধিকাংশ মালিক। ফলে ভবিষ্যৎ পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ নগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিয়মবহির্ভূত কাজের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল নামমাত্র নোটিশ পাঠিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করছে। নোটিশ পাঠানোর পর পরবর্তীতে আর কোনো মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন বা তদারকি করা হচ্ছে না। ফলে ভবন মালিকেরা নির্বিঘ্নে তাদের অবৈধ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে পৌরসভা থেকে ভবন নির্মাণের জন্য প্রথমে একটি বৈধ নকশা অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে কাজ করার সময় সেই অনুমোদিত নকশা পুরোপুরি বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ওয়ার্কিং নকশা বা কাজের মানচিত্র ব্যবহার করা হয়। এতে ভবনের নিজস্ব সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে গিয়ে চারপাশের রাস্তা বা ফাঁকা জায়গার নিয়ম কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না।
পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে নোটিশ পাঠালেও তা মাঠপর্যায়ে কোনো প্রভাব ফেলছে না। অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনকারী মালিকেরা নোটিশের কোনো তোয়াক্কা না করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সুপারিশ ও প্রভাব খাটিয়ে গায়ের জোরে কাজ অব্যাহত রাখছেন। রাজনৈতিক চাপের কারণে একটি সুপরিকল্পিত নগর গঠনের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নগরবাসী।
এলাকার এই চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, অনুমোদিত নকশা এক রকম আর বাস্তবে বিল্ডিং তোলা হচ্ছে সম্পূর্ণ অন্য রকম। রাস্তার জন্য ন্যূনতম জায়গা না ছেড়েই অনেকে বহুতল ভবন তুলছেন। পৌরসভা একটা নোটিশ দিয়েই খালাস, পরে সেই নিয়ম মানা হলো কি না তা এসে আর কেউ খোঁজও নেয় না।
আরেকজন ভুক্তভোগী পৌর বাসিন্দা মোছা: সালমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক নেতার দোহাই দিয়ে নিয়মের তোয়াক্কা না করে আমাদের চোখের সামনে গায়ের জোরে অপরিকল্পিত দোকান আর বাড়ি বানানো হচ্ছে। এভাবে দেদারসে অনিয়ম চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই শহর বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়বে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা পৌরসভার প্রশাসক মোঃ আমিরুল আরাফাত এবং সহকারী প্রকৌশলী সোহানুর রহমান শিশির নিয়মতান্ত্রিক মনিটরিং ও জনবলের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এই অচলাবস্থা নিরসনে এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে তারা আশ্বস্ত করেছেন।
পৌর নগরবাসীর মতে, শুধুমাত্র প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে না থেকে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সাথে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে অবৈধ কাজের সুপারিশ বন্ধ করে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা একান্ত প্রয়োজন। তবেই ভেড়ামারাকে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

Leave a Reply