
সোহাগ রানা গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুকে) মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার খোরশেদ আলম। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এমসি বাজার (জপ্তারপাড়) এলাকার নিজ জমিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তিনি এ অভিযোগ করেন। উপজেলার ৮নং মুলাইদ মৌজার আরএস ৪০৭ এবং এসএ ৪২৮। জমির পরিমান ১৭ শতাংশ।
ব্যারিস্টার খোরশেদ আলম মাওনা এমসি বাজার (জপ্তারপাড়) এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত স্ব-পরিবারে লন্ডন প্রবাসী।
লিখিত বক্তব্যে ব্যারিস্টার খোরশেদ আলম বলেন, ১৯৭২ সালে তার বাবা মজিবুর রহমানের রেজিস্ট্রী মূলে জমির মালিকানা হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর আমরা ভাই ও বোনেরা ২০২৪ সালে বন্টননামা রেজিস্ট্রী দলিল করে নিজ নিজ মালিকানা লাভ করি। যে জমিতে আমি বসে আছি আপনাদের সামনে বক্তব্য দিতচ্ছি এ অংশটুকুর মালিকানা আমার। ছুটিতে এসে আমার জমিতে স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করি। আমি যেহেতু স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে লন্ডন প্রবাসী তাই এখানে স্থাপনা বা ঘর নির্মাণ করে রেখে দিলে কাজে আসবে। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ঘর নির্মাণ করার জন্য ইটা-বালি নিয়ে এসে জমিতে রাখি। কাজ চলমান থাকার সময়ে বিকেল ৩টার দিকে একই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে কামরুল হাসান আজাদ, মাহমুদুল হাসান সোহাগ ও তাদের সহযোগীসহ সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যাক্তি হঠাৎ আমার ভোগদখলীয় জমিতে আসে। তারা আমার নির্মাণ শ্রমিকদেরকে কাজ বন্ধ করারনির্দেশ দেয়। তখন কিসের ভিত্তিতে আসছেন, কোনো অভিযোগ আছে আপনাদের কাছে? তখন তারা আমার বিরুদ্ধে তাদের কাছে কোনো অভিযোগ আমাকে দেখাতে পারেনি। আমি আমার জমিতে কাজ করতেছি। কারো জমি জোরপূর্বক দখল করে কাজ করছি না। প্রকৃত সাংবাদিকেরা আমার জমির কাগজপত্র দেখে বা বুঝতে পেরে তারা চলে যায়। ২-১ জন সাংবাদিক পরিচয়ধারী তারা এ ঘটনাকেসাজানো, মিথ্যা এবং অপমানজনক তথ্য দিয়ে জমি দখলের শিরোনাম দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। আমি আমার পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে নিজ জমিতে স্থাপনা বা ঘর নির্মাণের কাজ করতেছি। নিজের জমিতে কাজ করলে দখল হলো কিভাবে? জমির মালিকানা দাবি করা কামরুল হাসান আজাদ এবং মাহমুদুল হাসান সোহাগ তাদের বাবা জীবদ্ধশায় কখনো এ জমির মালিকানা দাবি করে নাই। থানা বা আদালকে কোনো মামলা বা অভিযোগ করেনি। উপরন্তু তাদের বাবা আশরাফ আলী কেনার সময় দলিলে স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছে। তাদের দাবি জমি ৭৬ শতাংশ। কিন্তু আমরা ১৭ শতাংশের মালিক। বাকি জািম কোথায় সেটা তারা খোঁজে বের করুক। এসব বিষয় নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের জন্য অপ সাংবাদিকতার জলন্ত উদাহরণ এবং আমাকে সামাজিকভাবে মানহানি করা হয়েছে। এতে আমার সামাজিক সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেই তারা বলবে এটা কার জমি বা কারা ভোগদখল করে আছে। আমাকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। জমি দখলের প্রশ্নই আসে না, যেহেতু জমির মালিকানা আমি নিজে। আমার বাবা তার পরে আমি ৫৪ বছর ধরে এ জমি ভোগদখলে আছি। এসময় তিনি সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানান এবং বলেন এটা সমাজ, রাষ্ট্র তথা সাংবাদিকতা পেশার জন্য ক্ষতিকর। মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ব্যারিস্টার খোরশেদ আলম আরো বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার থেকে মুক্তি পাওয়া আমার ন্যায্য অধিকার। বাধ্য হয়েই সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছি। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
অভিযুক্ত কামরুল হাসান আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply