
স্টাফ রিপোর্টার,মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের ১নং রতিরাম পাঠানপাড়া ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া গ্রামের বিধবা হাসনা খাতুন(৬২) প্রায় দুই বছর ধরে বিধবা ভাতা না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এবার তার বিধবা ভাতা চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার নাজিমখান ইউপি’তে বিধবা ভাতার বরাদ্দ না থাকায় মহিলা মেম্বারের স্বামী মোফাস্সেল হক ও ইউপি সদস্য মোসলেম মিয়া ভুক্তভোগী হাসনা খাতুন ভাতা দিতে পারে নাই এবং গত ৭ সেপ্টেম্বর২০২৬ইং সোমবারে সংবাদ প্রকাশের পর ভুক্তভোগী হাসনা খাতুনের বিধবা ভাতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দ্রুত সমাজসেবা কার্যালয়ে যান মহিলা ইউপি সদস্যের স্বামী সহ ইউপি সদস্য মোসলেম মিয়া। তারা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসনা খাতুনের ভাতার কাগজপত্র জমা দেন।
সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে হাসনা খাতুনকে চলমান বিধবা ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তার ভাতা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝিরও অবসান হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী হাসনা খাতুন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের মধ্যে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে। মীমাংসার পর হাসনা খাতুন ইউপি সদস্যের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।অন্যদিকে, মহিলা ইউপি সদস্যের স্বামী মোফাস্সেল হক ও ইউপি সদস্য মোসলেম মিয়া বিষয়টি নিয়ে অনুতপ্ত হয়েছেন এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী হাসনা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ভাতা না পাওয়ায় তিনি সমস্যায় ছিলেন। সংবাদ প্রকাশের পর তার ভাতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে এবং কাগজপত্র সমাজসেবা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ভাতা চালু হবে—এমন আশ্বাস পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সরকারি ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। হাসনা খাতুনের ক্ষেত্রেও সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে হাসনা খাতুনের ভাতা কার্যকরভাবে চালু হয়ে টাকা পাওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে তার দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply