
স্টাফ রিপোর্টার,মোঃ রেজাউল হক কুড়িগ্রাম
একসময় গাছ থেকে ঝরে পড়ে পঁচে যাওয়া সুপারি ছিল কৃষকের কাছে মূল্যহীন। ফেলে দেওয়া সেই সুপারিই এখন কুড়িগ্রামে হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের উৎস। ঝরে পড়া সুপারি সংগ্রহ করে শুকিয়ে বিক্রি করছেন কৃষক ও হকাররা। আর তা কিনে প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা। এ বাণিজ্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান।
গাছ থেকে ঝরে পড়া সুপারি। একসময় যার ঠাঁই হতো ময়লার স্তূপে। এখন সেই পরিত্যক্ত সুপারিই এনে দিচ্ছে বাড়তি আয়। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন গ্রামের হকাররা বাগান ও বাড়ির আঙিনা থেকে বঝরে পড়া এবং পচে যাওয়া সুপারি সংগ্রহ করেন। এরপর রোদে শুকিয়ে বস্তায় ভরে নিয়ে আসেন বাজারে। রাজারহাট উপজেলার দিনোবাজারে এখন নিয়মিত বসছে পচা সুপারির বেচাকেনার হাট। বস্তাভর্তি শুকনো সুপারি নিয়ে আসছেন হকাররা। ব্যবসায়ীরা সেগুলো কিনে করছেন বাছাই ও পরিষ্কার। পরে ট্রাকযোগে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। মানভেদে এসব সুপারি প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দরে কেনাবেচা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, মাসে প্রায় ৩০ টন পচা সুপারি যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। শুধু কেনাবেচাই নয়, সুপারি বাছাই, পরিষ্কার, শুকানো ও পরিবহনের কাজেও যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় নারী-পুরুষ। ফলে একসময় ফেলে দেওয়া একটি কৃষিপণ্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত এসব পচা সুপারি বিভিন্ন শিল্পকারখানায় রঙ তৈরিসহ নানা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা সুপারি এখন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামে প্রায় ১ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। জেলার অন্যতম অর্থকরী এ ফসলের ঝরে পড়া ও পরিত্যক্ত অংশকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্য এখন গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ করছে নতুন গতি। উৎপাদিত সুপারির পাশাপাশি ঝরে পড়া ও পচে যাওয়া সুপারিও বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগায় একদিকে কমছে অপচয়, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। ফেলে দেওয়া পচা সুপারি ঘিরে তৈরি হওয়া এই নতুন বাণিজ্য শুধু কৃষক ও ব্যবসায়ীর আয়ই বাড়াচ্ছে না, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও রাখছে ইতিবাচক ভূমিকা।
ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, গড়ে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ মেট্রিক টন সুপারী দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছি। এতে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। শ্রমিকরাও উপার্জনের একটা পথ পেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছালাম বলেন, পঁচা সুপারী হিসেবে আগে যেগুলো ফেলে দেয়া হতো এখন সেই সুপারী দিয়েই শতশত মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে।শ্রমিক রেনু বালা বলেন, দিনে ৫০০ থেকে ৬০০টাকা মজুরী পাচ্ছি, এখন আমার সংসার ভালো ভাবে চলছে।
রাজারহাট উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হৈমন্তি রানী বলেন, রাজারহাট উপজেলার সুপারি বাগান থেকে যেসব সুপারি ঝরে পড়ে, সেসব সুপারি একসময় যেখানে ফেলনা ছিল, কোনো কাজে লাগতো না, সেসব সুপারি এখন হকাররা কৃষকের কাছ থেকে ভালো মূল্যে কিনে নিয়ে যান এবং সেগুলো ভালো দামে বিক্রি করেন। এই কাজের সাথে জড়িত কৃষক, আড়তদার ও শ্রমিক তারাও লাভবান হচ্ছেন।

Leave a Reply