নজমুল হক, স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান-এর সম্মানে এক আন্তরিক ও বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ প্রাক্তন ছাত্র সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ০৯ মে শনিবার বিকাল ৪:০০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনস্থ ‘অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তন’-এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং শুভানুধ্যায়ীদের মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাউবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করায় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান-কে সম্মাননা ক্রেস্ট, শুভেচ্ছা স্মারক, মানপত্র ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “আজকের এই আয়োজন আমার জন্য কেবল আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা নয়; এটি গভীর ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও আত্মিক বন্ধনের এক স্মরণীয় প্রকাশ।” তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে তিনি গর্ববোধ করেন। বিভাগের শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁদের কাছ থেকেই তিনি মানবিকতা, ইতিহাসচেতনা ও জ্ঞানচর্চার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বাউবি বর্তমানে দেশ-বিদেশের লাখো শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে।
অধ্যাপক খান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অগ্রগতির পাশাপাশি মানবিকতা, নৈতিকতা ও ইতিহাসবোধের সমন্বয় ঘটানো সময়ের দাবি। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহনশীলতা, বহুত্ববাদ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি এই সম্মাননাকে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বিভাগের শিক্ষক, সহপাঠী ও অ্যালামনাই পরিবারের সম্মিলিত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। দায়িত্ব পালনে সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি মিসেস শবনম শেহনাজ চৌধুরী (দীপা)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সবসময় সহমর্মিতা, প্রেরণা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশকে তিনি সংগঠনের ঐক্য, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। শেষে তিনি উপাচার্যের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান-কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা তাঁর শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান, প্রশাসনিক দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বক্তারা বলেন, তিনি একজন সজ্জন, প্রজ্ঞাবান ও সাদা মনের মানুষ হিসেবে সবার কাছে শ্রদ্ধেয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, অধ্যাপক ড. হাবিবা খাতুন, অধ্যাপক ড. আয়েশা বেগম, অধ্যাপক মঞ্জরুল আলম খান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম, কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. সদরুল আমিন, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম এবং উপাচার্যের সহধর্মিণী ড. আলো আরজুমান বানু।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের জীবনালেখ্য ও মানপত্র পাঠ করা হয়। এতে তাঁর শিক্ষা জীবন, কর্মজীবন, গবেষণা, প্রশাসনিক সাফল্য ও সামাজিক অবদানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, ছাত্র-শিক্ষক, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে তিনি একজন মানবিক, বিনয়ী ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জনাব মাহমুদুর রহমান।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন। তাঁর এ সাফল্যে বিভাগের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ, গর্ব ও উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে।

Leave a Reply