‎ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার ভেড়ামারায় পদ্মার তীব্র ভাঙন: স্থায়ী বাঁধের দাবিতে ফয়জুল্লাহপুরে এলাকাবাসীর আকুতি

‎ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার ভেড়ামারায় পদ্মার তীব্র ভাঙন: স্থায়ী বাঁধের দাবিতে ফয়জুল্লাহপুরে এলাকাবাসীর আকুতি

মাহমুদুল হাসান চন্দন:

‎কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রমত্তা পদ্মার ক্রমাগত গ্রাসে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, গাছপালা ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অসংখ্য পান বরজ। ভাঙনের তীব্রতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নদীর তীরবর্তী শত শত ঘরবাড়ি একেবারে সীমানার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে পুরো গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে নদীপাড়ের আতঙ্কিত মানুষের।

‎১৪ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে পদ্মার আগ্রাসী থাবায় ইতোমধ্যে বহু মানুষ তাদের ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। নদীপাড়ের বসতবাড়িগুলো এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙনের যে গতি, তাতে দ্রুত সরকারি বড় কোনো পদক্ষেপ না নিলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নদীপাড়ের বিশাল এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়বেন হাজারো মানুষ।

‎এই চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে ফয়জুল্লাহপুর গ্রামকে পদ্মার বুক থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে সরকারি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকল উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

‎মঙ্গলবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ড. নুরুল আমীন জসিম, উপজেলা জামায়াতের আমির জালাল উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম।

‎ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেন জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার জানমত আলি, জুনিয়াদহ ইউনিয়ন জামায়াতের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি জিহাদুল ইসলাম, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি হারুনুর রশিদ এবং বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার রফিকুল ইসলাম রতনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

‎পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের এই ভাঙন শুধু একটি গ্রামের ক্ষতি নয়, এটি পুরো অঞ্চলের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। সাময়িক কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং অবিলম্বে এখানে স্থায়ী এবং শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যেন দ্রুত বাজেট বরাদ্দ করে এই অসহায় মানুষগুলোর ভিটেমাটি রক্ষা করা হয়।

‎স্থানীয়রা আক্ষেপ করে বলেন, বছরের পর বছর নদী ভাঙনে তারা নিঃস্ব হচ্ছেন। জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক পলেস্তারা দেওয়ার চেয়ে সরকার যদি স্থায়ী সিসি ব্লক বা আধুনিক প্রযুক্তির বাঁধ নির্মাণ করে, তবেই এই জনপদ রক্ষা পাবে। ভাঙন কবলিত এলাকার হাজারো পরিবারের এখন একটাই আকুতি—”ত্রাণ চাই না, আমরা বাঁচার মতো স্থায়ী বাঁধ চাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.