
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাজীপুরে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আসুন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি’ এবং ‘ডেঙ্গুকে না বলুন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। র্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয় এবং এতে সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক আহমেদ হোসেন ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সোহেল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহরিয়ার নজির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) তামান্না তাবাসসুম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রাকিবুল হাসান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুনুর রহমান,শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা,মো. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক মোঃ সোহেল রানা, জিসিসির ডা: মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. খলিলুর রহমানসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী ও তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও অংশীজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক, মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলেই এডিস মশার বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তাই আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে এর কার্যকর সমাধান।
‘জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে গাজীপুর জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২১১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা, পর্যাপ্ত শয্যা, চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। তবে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, মোঃ সোহেল রানা বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য অপসারণ, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানাই। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়।’স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে।গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিসের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত মোট ২১১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
জানুয়ারি মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৫৮ জন, মার্চে ২৮ জন, এপ্রিলে ২২ জন এবং মে মাসে ২২ জন। এ সময়ে সরকারি হাসপাতালে ৯৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১১৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে উল্লিখিত সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Leave a Reply