
আশিকুর রহমান সবুজ, বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচে অনিরাপদ দখল, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি ও অননুমোদিত সংযোগ নিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দৈনিক আমাদের দর্পণ’-এ সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
পরিদর্শনকালে উড়ালসেতুর নিচে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত দোকানপাট ও অননুমোদিত বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রত্যক্ষ করেন তিনি। এ সময় ঘটনাস্থল থেকেই ইউএনও মহোদয় মাওনা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে (DGM) মুঠোফোনে সরাসরি নির্দেশ দেন—উড়ালসেতুর নিচের সকল অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ অনতিবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করার জন্য।
একই সঙ্গে উড়ালসেতুর নিচে নিয়মশৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি স্পষ্ট জানান, উড়ালসেতুর নিচে কোনো প্রকার স্থায়ী দোকান, চৌকি বা বড় অবকাঠামো গড়ে তোলা যাবে না; কেবল ছোট পরিসরে টেবিল বসিয়ে কেনাবেচা করা যাবে।
অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যুৎ দুর্ঘটনা এড়াতে কোনো ধরনের বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহার না করে কেবল দিনের আলোতেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।
চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে ইউএনও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, “এখানে ব্যবসা করার জন্য কাউকে কোনো প্রকার টাকা-পয়সা বা অবৈধ চাঁদা দেওয়া যাবে না।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘দৈনিক আমাদের দর্পণ’-এ “মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচে অনিরাপদ দখলের উৎসব—ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে মাওনা চৌরাস্তা” শীর্ষক একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উড়ালসেতুর নিচে অবাধে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, পথচারীদের দুর্ভোগ এবং স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের এককালীন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নজরানা আদায়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল।
সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও’র সরেজমিন পরিদর্শন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রদান করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।

Leave a Reply