
সামসুল হক জুয়েল, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
ত্যাগ, সংগ্রাম ও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্যে কালীগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে এক পরিচিত নাম খায়রুল আহসান মিন্টু। রাজনীতির মাঠে অনেকের আগমন ঘটে, আবার সময়ের পরিবর্তনে অনেকেই হারিয়ে যান। সুসময়ে রাজনীতির আশপাশে ভিড় করলেও দুঃসময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে খুব কম নেতাকর্মীকেই রাজপথে দেখা যায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সততা, সাহস, ত্যাগ ও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য ধরে রেখে যারা রাজনীতির মাঠে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেন, তাদের মধ্যেই অন্যতম নাম খায়রুল আহসান মিন্টু।
চার দশক সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত খায়রুল আহসান মিন্টু আমি সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের নির্বাচিত সাবেক জি এস নির্বাচিত হন। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে সকল কাউন্সিল সদস্যের সরাসরি ভোটে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শফিকুর রহমান কামাল জানায়, তৎকালীন সময়ে তুমুলিয়া ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার অধীন থাকাকালে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন খায়রুল আহসান মিন্টু। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা আলহাজ্ব আবদুল মতিন চৌধুরীর রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে তিনি মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। সে সময় তিনি একজন বিশ্বস্ত ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তার সাহসী ভূমিকা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে তুমুলিয়া ইউনিয়ন গাজীপুরের কালীগঞ্জের অন্তর্ভুক্ত হলেও খায়রুল আহসান মিন্টুর রাজনৈতিক আদর্শ ও দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে। বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক সময়ে তিনি দলীয় কর্মকান্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি।
তুমলিয়া ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন খান জানান, মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের প্রতি নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। বরং দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। বর্তমানে গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন-এর নেতৃত্বে দলীয় রাজনীতিতে খায়রুল আহসান মিন্টুর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন।
তুমলিয়া ইউনিয়ন যুবদল সদস্য মাসুদ শেখের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকান্ডের মূল্যায়ন হিসেবে ২০২৫ সালের গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে খায়রুল আহসান মিন্টু সদস্য হিসেবে স্থান পান। তিনি মনে করেন, প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আগামী দিনের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খায়রুল আহসান মিন্টুকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা দেখা গেলেও তার সমর্থকরা এসব অপপ্রচারকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, কয়েক দশকের রাজনৈতিক ত্যাগ ও আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাময়িক প্রচারণা দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা সম্ভব নয়।
খায়রুল আহসান মিন্টুর অনুসারী তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক পথচলা কোনো একদিনে তৈরি হয়নি। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।” তারা আরও বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আলহাজ¦ আবদুল মতিন চৌধুরীর নেতৃত্বের সময় থেকে শুরু হওয়া খায়রুল আহসান মিন্টুর রাজনৈতিক পথচলা বর্তমানে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অঅলহাজ¦ এ কে এম ফজলুল হক মিলনের নেতৃত্বেও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা এবং সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীলতা একজন নেতার সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই খায়রুল আহসান মিন্টু কালীগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ এ কে এম ফজলুল হক মিলন এর দিকনির্দেশনা এবং অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কালীগঞ্জসহ গাজীপুর জেলা বিএনপি আগামী দিনে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে। চার দশকের রাজনৈতিক সংগ্রাম, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজপথের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় খায়রুল আহসান মিন্টু আজও নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক এমনটাই মনে করেন তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।

Leave a Reply