গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী শ্রমিকের মৃত্যু

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী শ্রমিকের মৃত্যু

নজমুল হক স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর

শিল্পনগরী গাজীপুরের ব্যস্ততম ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আবারও ঝরল এক তরুণ প্রাণ। সোমবার (৬ই এপ্রিল) সন্ধ্যায় মহানগরীর কোনাবাড়ী কলেজ গেট এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সোহাগ মিয়া (২৭) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

ঘাতক ট্রাকের বেপরোয়া গতি কেড়ে নিয়েছে একটি সাধারণ পরিবারের স্বপ্ন।নিহত সোহাগ মিয়া নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার রামপুর গ্রামের জব্বার আলীর ছেলে। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ‘লিবার্টি নিটওয়্যার লিমিটেড’ নামক একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিগত ও পেশাগত প্রয়োজনে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে গাজীপুর এলাকাতেই বসবাস করে আসছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় সোহাগ মিয়া তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: নেত্রকোনা-হ ১৩-৪৫৫৫) করে কালিয়াকৈর চন্দ্রা এলাকা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সন্ধ্যা আনুমানিক সময়ের দিকে তিনি যখন কোনাবাড়ী কলেজ গেট এলাকা অতিক্রম করছিলেন, ঠিক তখনই পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মালবাহী ট্রাক তার মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকের ধাক্কায় সোহাগ মিয়া মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। হেলমেট থাকলেও আঘাতের তীব্রতা এতোই বেশি ছিল যে, মাথায় গুরুতর জখম হওয়ায় রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পর স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ঘাতক ট্রাকটিকে আটকে সক্ষম হলেও চালক কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

দূর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই কোনাবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা মরদেহ উদ্ধার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কোনোবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান:”প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণে ঘটনাস্থলেই চালক সোহাগ মিয়ার মৃত্যু হয়। আমরা নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি এবং তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।”পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল ও ঘাতক ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

সোহাগ মিয়ার এমন অকাল মৃত্যুতে তার সহকর্মী ও গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। লিবার্টি নিটওয়্যার লিমিটেডের তার সহকর্মীরা জানান, সোহাগ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও অমায়িক ব্যবহারের মানুষ ছিলেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক বরাবরই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর মালবাহী ট্রাকগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে, যার ফলে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক আইন প্রয়োগে আরও কড়াকড়ি না করলে এমন প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক ট্রাক চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.