আশিকুর রহমান সবুজ,গাজীপুর প্রতিনিধি:
একটি সুন্দর সাজানো সংসার, যেখানে ছিল তিন বছরের ছোট্ট রুদ্রর হাসিমাখা মুখ। কিন্তু নিমিষেই সব ধূলিসাৎ হয়ে গেল রেললাইনের ধূসর পাথরে। গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের এক করুণ পরিণতি দেখল এলাকাবাসী। তুচ্ছ অভিমান যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তার প্রমাণ দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন স্কুলশিক্ষকের স্ত্রী মিতি রানী দাস (৩৫) ও তাঁর একমাত্র শিশুপুত্র রুদ্র দাস (৩)।
শুক্রবার সকালে যখন রাজেন্দ্রপুর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ আউটার সিগন্যালে ট্রেনের হুইসেল বাজছিল, তখন কেউ কল্পনাও করেনি সেখানে কী ঘটতে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাজেন্দ্র সেনানিবাসের বিপসট এলাকায় রেললাইনের পাশে শিশুটিকে নিয়ে চুপচাপ বসে ছিলেন মিতি রানী। সকালের ‘তিস্তা এক্সপ্রেস’ যখন ঝড়ের গতিতে এগিয়ে আসছিল, ঠিক তখনই তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মায়ের দেহ। স্থানীয়রা গুরুতর জখম অবস্থায় ছোট্ট রুদ্রকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও শেষ রক্ষা হয়নি; চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরদিনের জন্য চোখ বুজেছে সে।
চিনাশুকানিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মূলে ছিল দেবর প্রাণকৃষ্ণের সঙ্গে সামান্য কথা-কাটাকাটি। স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেনের মতে, বিষয়টি তেমন বড় কোনো কলহ ছিল না। কিন্তু সেই সামান্য অভিমানই মিতি রানীকে ঘরছাড়া করে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দেবর ও নিহতের স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাইয়ুম আলী জানিয়েছেন:
”সকালে পরিচয় শনাক্ত না হলেও বিকেলে পিবিআই-এর সহায়তায় তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
একটি শিশুর অকাল মৃত্যু আর একটি সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যাওয়ার এই দৃশ্য পুরো রাজাবাড়ি ইউনিয়নে শোকের ছায়া ফেলেছে। তুচ্ছ রাগ বা অভিমান যে জীবনের চেয়ে বড় নয়, এই ঘটনা আবারও সেই তিক্ত সত্যটিই সামনে নিয়ে এল।

Leave a Reply