
আঃ হামিদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকা জলই গ্রামে এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (২০ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের টেলকির জলই এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন—জলই গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে নেইমার (১১), স্বয়ং বাবলু মিয়া (৪৮), বাবলুর শ্যালক অর্থাৎ নেইমারের মামা বাদল মিয়ার ছেলে রতন (২৮) এবং তাদের প্রতিবেশী করিমের ছেলে গাবরিয়েল (৩২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাবলু মিয়ার একটি গৃহপালিত ছাগল অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশে থাকা একটি গভীর ও পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে পড়ে যায়। ছাগলটিকে জীবিত উদ্ধার করার জন্য প্রথমে শিশু নেইমার গর্তের ভেতর নামার চেষ্টা করে। কিন্তু গর্তের ভেতরে জমে থাকা তীব্র বিষাক্ত গ্যাসের কারণে সে মুহূর্তের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়ে যায়।
সন্তানকে ভেতরে ছটফট করতে দেখে এবং কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাবা বাবলু মিয়া তাকে বাঁচাতে দ্রুত গর্তে নামেন। তিনিও বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েন। এরপর তাদের উদ্ধার করতে পর্যায়ক্রমে মামা রতন এবং প্রতিবেশী যুবক গাবরিয়েল একে একে গর্তের ভেতরে প্রবেশ করেন। দুর্ভাগ্যবশত, বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড বা মিথেন গ্যাসের তীব্রতায় চারজনের কেউই আর ওপরে ফিরে আসতে পারেননি। গর্তের ভেতরেই দম আটকে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা চিৎকার ও ভিড় জমালে মধুপুর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ প্রক্রিয়ায় গর্ত থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে এম ফজলুর হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
”একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে পড়ে যাওয়া ছাগল বাঁচাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে বাকিরা নামেন এবং বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনই মারা যান। মরদেহগুলো উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একটি সাধারণ ছাগল বাঁচাতে গিয়ে এভাবে চারটি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় কান্নার রোল পড়েছে।

Leave a Reply