
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক ব্যবসায়ীকে গণধেন্দা দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছে এক বিএনপি নেতা ও আইনজীবীকে পুলিশের হেনস্তা ও ধমক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শ্রীপুর থানার মাওনা ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মনিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এই দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দবির আহমেদ।
শনিবার (অথবা ঘটনার দিন) শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি করে আসছিল এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বিষয়টি টের পেয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দবির আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় এলাকাবাসী ওই মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করে। আটকের পরপরই বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ জানানো হয় এবং শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলামকে অবহিত করা হয়। এমপি ও প্রশাসনের সবুজ সংকেত নিয়েই এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে এই মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয় বলে জানান দবির আহমেদ।
পুলিশের দেরিতে আগমন ও বাকবিতণ্ডা অভিযোগ উঠেছে, মাদক ব্যবসায়ীকে আটকে রাখার দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শ্রীপুর থানার মাওনা ফাঁড়ির পুলিশ। ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মনিবুর রহমান ঘটনাস্থলে এসেই মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের কারণে উল্টো এলাকার সাধারণ মানুষের সামনে অ্যাডভোকেট দবির আহমেদকে ধমক দিয়ে কথা বলতে শুরু করেন।
এক পর্যায়ে ইন্সপেক্টর মনিবুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন— “মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করার জন্য কি দবির আহমেদ নিজে আইন তৈরি করে নিয়েছেন?” এ সময় তিনি দবির আহমেদের পেশাগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে দবির আহমেদ জানান যে, তিনি গাজীপুর জেলা জজ কোর্টের একজন নিয়মিত আইনজীবী এবং গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব।”আমার পরিচয় জানার পরেও ইন্সপেক্টর মনিবুর রহমান অত্যন্ত উচ্চস্বরে আমাকে ধমকাতে থাকেন। পুলিশ ছাড়া কেন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হলো, তা নিয়ে তিনি তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একজন আইনজীবী ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এলাকাবাসীর সামনে আমার চরম সম্মানহানি করা হয়েছে।”— অ্যাডভোকেট দবির আহমেদ ।
মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে সহায়তা করার পরও একজন আইনজীবী ও স্থানীয় নেতাকে পুলিশের এভাবে প্রকাশ্যে ধমক ও হেনস্তা করার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশ সময়মতো না এসে উল্টো মাদক ধরতে সাহায্য করা মানুষদের সাথে অপরাধীর মতো আচরণ করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ বিষয়ে জানতে মাওনা ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মনিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। (অথবা: পুলিশের দাবি, আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছে)।

Leave a Reply