অস্ট্রেলিয়ায় তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড

অস্ট্রেলিয়ায় তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড

​অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের গিলং (Geelong) শহরের কোরিওতে অবস্থিত অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে শোধনাগারটিতে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া না গেলেও দেশটির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​ফায়ার রেসকিউ ভিক্টোরিয়া (FRV) জানিয়েছে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত ১১টার কিছু পরে ভিভা এনার্জি প্ল্যান্টের গ্যাস পাইপলাইনে ছিদ্র থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের পর আকাশচুম্বী আগুনের শিখা দেখা যায়। আগুনের শিখা প্রায় ৬০ মিটার (২০০ ফুট) পর্যন্ত উঁচুতে উঠে যায়, যা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও দৃশ্যমান ছিল।

​আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৫০টিরও বেশি ইউনিট এবং বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপক দল রাতভর কাজ করে। দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টারও বেশি সময়ের প্রচেষ্টায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

​কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শোধনাগারের ‘ট্রান্সফার এরিয়া’ বা স্থানান্তর এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি গ্যাস লিক থেকে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ইনসিডেন্ট কন্ট্রোলার মার্ক ম্যাকগুইনেস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এটি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। একটি ছোট আগুন থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু বিস্ফোরণ ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত এটি একটি দানবীয় অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়।”

​তবে সৌভাগ্যবশত, ঘটনার সময় ওই এলাকায় কোনো কর্মী না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া শোধনাগারের ডিজেল এবং জেট ফুয়েল ইউনিটগুলো মূল আগুনের কেন্দ্রস্থল থেকে আলাদা থাকায় সেগুলোতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে হাই-অকটেন পেট্রোল উৎপাদন ইউনিটটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

​অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে মাত্র দুটি তেল শোধনাগার চালু রয়েছে, যার মধ্যে গিলং-এর এই ‘ভিভা এনার্জি’ অন্যতম। এটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫০ শতাংশ এবং সমগ্র অস্ট্রেলিয়ার ১০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করে।

​অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন (Chris Bowen) এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক একটি সময়। পেট্রোল উৎপাদনের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি দেশবাসীকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার হাতে মাত্র ৩৮ দিনের পেট্রোল এবং ৩১ দিনের ডিজেল রিজার্ভ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক কম।

​অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকাটি ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষ ঘরের জানালা বন্ধ রাখার এবং বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে গিলং এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ‘ওয়াচ অ্যান্ড অ্যাক্ট’ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল, যা বৃহস্পতিবার বিকেলে কিছুটা শিথিল করা হয়।

​শোধনাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে বর্তমানে শোধনাগারের উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে আনা হয়েছে। পুরো এলাকাটি বর্তমানে ফরেনসিক দল এবং সেফটি অফিসারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

​বিশেজ্ঞদের মতে, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ অস্ট্রেলিয়ায় পেট্রোলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতার মাঝে এই দুর্ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.