শ্রীপুরে ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ অধ্যায়: প্রশাসনিক সক্রিয়তা, বাস্তবতার নিরিখ ও মিশ্র অভিজ্ঞতার ব্যবচ্ছেদ‎

শ্রীপুরে ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ অধ্যায়: প্রশাসনিক সক্রিয়তা, বাস্তবতার নিরিখ ও মিশ্র অভিজ্ঞতার ব্যবচ্ছেদ‎


‎​আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর)


‎গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদের কর্মকাল ও তৎপরবর্তী বদলি স্থানীয় প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে এক গভীর পর্যালোচনার সূত্রপাত করেছে। তাঁর কার্যকাল কেবল রুটিনমাফিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল উন্নয়ন অভিযাত্রা এবং বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক দৃঢ়তা প্রদর্শনের এক জটিল সমীকরণ।
‎​
‎ব্যারিস্টার সজীব আহমেদের দায়িত্বকালীন সময়ে, বিশেষত ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক প্রকার শূন্যতা সৃষ্টি হয়। শ্রীপুর পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। জনপ্রতিনিধিবিহীন সেই ক্রান্তিকালে ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভূত অবস্থা শ্রীপুর পৌরসভা ও উপজেলা এলাকায় প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।
‎​
‎জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ও পরবর্তীতে দেশজুড়ে মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটলেও শ্রীপুরে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। বিষয়টিকে অনেকে তাঁর প্রশাসনিক প্রজ্ঞা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের উচ্চতর স্তরের অবিচল আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ ও সংবেদনশীল সময়ে মাঠ প্রশাসনের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি সিদ্ধান্তের সফল রূপায়ণে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা অনস্বীকার্য।
‎​
‎সাফল্যের আলোকচ্ছটার সমান্তরালে তাঁর আমলের কিছু প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পে পদ্ধতিগত অসংগতির প্রশ্নও জনশ্রুতির অন্তরালে আলোচিত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত বা দাপ্তরিক সত্যতা প্রমাণিত হয়নি, তথাপি মাঠপর্যায়ের জনমত ও বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের মূল্যায়নে এক প্রকার মিশ্র প্রতিক্রিয়ার উপস্থিতি বিদ্যমান। উন্নয়নের উচ্চাশা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মধ্যকার যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য, তা নিয়ে স্থানীয় বোদ্ধা মহলে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা।
‎​
‎পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা ও সমন্বয় ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, তথ্য প্রবাহের অবাধ সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়নে তিনি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেছেন। এই আন্তঃব্যক্তিক সমন্বয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথকে অনেকাংশেই সুগম করেছিল।
‎​
‎পরিশেষে, ব্যারিস্টার সজীব আহমেদের শ্রীপুরে অতিবাহিত সময়কালকে নিছক একটি বদলি হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। এটি ছিল উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা, প্রশাসনিক একমুখিতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার এক জটিল সংমিশ্রণ। ইতিহাস ও মহাকালের বিচারে তাঁর এই বর্ণাঢ্য অথচ আলোচিত অধ্যায়টি শ্রীপুরের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক অনন্য আখ্যান হিসেবেই সংরক্ষিত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.