অনলাইন ডেস্ক
জার্মানির প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে চলছে নজিরবিহীন ধর্মঘট। দেশটির জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ‘লুফথানসা’ (Lufthansa)-সহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের পাইলট ও কেবিন ক্রুরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এই কর্মবিরতি পালন করছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ধর্মঘটের চতুর্থ দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ হাবগুলোতে অর্ধেকেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
জার্মানির প্রভাবশালী ইউনিয়ন ‘ফেরাইনিগুং ককপিট’ (VC) এবং ‘ইউএফও’ (UFO) যৌথভাবে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে লুফথানসা কর্তৃপক্ষের সাথে বেতন কাঠামো ও কাজের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি তারা। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে অনড় রয়েছে কর্মীরা। গত বুধবারের মধ্যস্থতা বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ায় ধর্মঘট আরও তীব্র হয়েছে।
আজকের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির ব্যস্ততম বিমানবন্দর ফ্রাঙ্কফুর্টে নির্ধারিত ১,৩১৩টি উড্ডয়ন ও অবতরণের মধ্যে অন্তত ৬৫৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। লুফথানসার পাশাপাশি তাদের সহযোগী সংস্থা ‘লুফথানসা সিটিলাইন’ এবং সাশ্রয়ী এয়ারলাইন ‘ইউরোউইংস’-এর কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রায় ২ লক্ষাধিক যাত্রী সরাসরি এই ধর্মঘটের কবলে পড়েছে। কেবল আজই ফ্রাঙ্কফুর্টে ৮৫% এবং মিউনিখে প্রায় ৮০% ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বার্লিন, হামবুর্গ এবং ডুসেলডর্ফ বিমানবন্দরগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
বিমানবন্দরগুলোতে দেখা গেছে শত শত যাত্রীর দীর্ঘ সারি। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন যে, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়ায় তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। বিশেষ করে যারা কানেক্টিং ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন, তারা বিমানবন্দরেই আটকা পড়েছেন।
লুফথানসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা যাত্রীদের বিকল্প ট্রেনের টিকেট (Deutsche Bahn) প্রদান করছে এবং অনেককে হোটেলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চাপে এই সেবা দিতেও হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি।
লুফথানসার এক মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা এই পরিস্থিতির জন্য দুঃখিত। ইউনিয়নের এই কঠোর অবস্থান কেবল কোম্পানির ক্ষতি করছে না, বরং হাজার হাজার যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা নষ্ট করছে। আমরা এখনো আলোচনার দরজা খোলা রেখেছি।”
অন্যদিকে ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন, যদি দ্রুত দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে এই ধর্মঘট সপ্তাহান্ত পর্যন্ত গড়াতে পারে।

Leave a Reply