আরব আমিরাতে প্রবাসীদের অভিভাবক প্রকৌশলী আবু জাফর চৌধুরীর মৃত্যু

আরব আমিরাতে প্রবাসীদের অভিভাবক প্রকৌশলী আবু জাফর চৌধুরীর মৃত্যু

মোহাম্মদ আরমান চৌধুরী | আরব আমিরাত প্রতিনিধি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উজ্জ্বল নক্ষত্র, বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং বাংলাদেশ সমিতি আবুধাবির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী আবু জাফর চৌধুরী (৭৫) আর নেই। গত রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৮টার দিকে শারজাহর একটি বেসরকারি হাসপাতালে (মেডকেয়ার) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র এবং দেশ-বিদেশে অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

​চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবু জাফর চৌধুরী। পেশাগত জীবনে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তা ও সিআইপি (CIP)। গত প্রায় চার দশক ধরে তিনি আরব আমিরাতে প্রবাসীদের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। বিশেষ করে আবুধাবিতে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সুসংগঠিত করতে এবং বাংলাদেশ সমিতির নেতৃত্বে থাকাকালীন তিনি প্রবাসীদের আইনি ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত শারজাহর মেডকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

​মরহুমের বড় ছেলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত এবং ছোট ছেলে শারজাহতে প্রকৌশলী হিসেবে বাবার উত্তরাধিকার বহন করছেন। গতকাল ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (বুধবার) আসরের নামাজের পর শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ রোড সংলগ্ন এডনক পেট্রোল স্টেশনের পাশের মসজিদে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আমিরাতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত প্রবাসী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পেশাজীবীরা অংশ নেন।

​প্রকৌশলী আবু জাফর চৌধুরীর মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের বন্যা বয়ে যায়। প্রবাসীরা তাকে একজন ‘অভিভাবক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

​আমিরাতের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, “আবু জাফর চৌধুরী ছিলেন আমাদের বিপদের বন্ধু। প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং শ্রমিক ভাইদের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন আপসহীন এক কণ্ঠস্বর। তার এই শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.