বাউবিতে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপিত

বাউবিতে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপিত

নজমুল হক, স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর


বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুরস্থ মূল ক্যাম্পাসে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ০৩ বৈশাখ ১৪৩৩ (১৬ এপ্রিল ২০২৬) বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর এ আয়োজনে বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০:৩০টায় উপাচার্যের দপ্তরের সামনে থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবন সংলগ্ন আমবাগানের বৈশাখী মেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রাণবন্ত বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। বৈশাখী মেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের একটি সার্বজনীন লোকজ উৎসব, যা জাতির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে সংযোগের প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, নববর্ষ শুধু একটি দিনের উদযাপন নয়—বরং সারা বছর আমাদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে এই সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, নতুন বছর পুরাতন গ্লানি ও অপ্রাপ্তিকে পেছনে ফেলে নতুন আশা, সম্ভাবনা ও স্বপ্ন নিয়ে আসে। এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সংস্কৃতিচর্চাকে আরও বেগবান করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের নতুন অভিযাত্রায় মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি কামনা করেন, নতুন বছর দেশ ও জাতির জন্য সুখ, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি বয়ে আনবে”। এছাড়াও তিনি বৈশাখী মেলায় আয়োজিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। স্টলগুলোতে বাহারি পিঠাপুলি, দেশীয় নানা খাবার ও নান্দনিকভাবে সাজানো সামগ্রী দেখে তিনি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি সকলকে মেলা, স্টল এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগের আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সাঈদ ফেরদৌস এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম আহমেদ হুসেইন, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, শিক্ষকবৃন্দ, বিভাগের পরিচালক/বিভাগীয় প্রধানসহ মূল ক্যাম্পাসের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ, যেখানে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির রঙিন উপস্থাপনা উপস্থিত সবার মাঝে আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহ সৃষ্টি করে। দিনব্যাপী মেলা শেষে বিকাল ৩:০০টায় আমবাগানে বাউল শিল্পী এবং বাউবি পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা নববর্ষের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.