
মাহমুদুল হাসান চন্দন:
কুষ্টিয়ায় জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তেল ও পানি পড়ার মাধ্যমে ক্যান্সারসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগ নিরাময় হয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও লোকমুখে অবৈজ্ঞানিক এই দাবির কথা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ভিড় করছেন তার আস্তানায়। ডাক্তারদের দাবি কবিরাজের চিকিৎসার ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নাই।
নজরুল ইসলাম দাবি করছেন—তার দেওয়া বিশেষ তেল ও পানি পড়া নিয়মিত ব্যবহার করলে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি এবং লিভারের জটিল রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। তার এই চিকিৎসা নেওয়ার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ আধুনিক ও সঠিক চিকিৎসা ছেড়ে এখানে ছুটে আসছেন।
কবিরাজ নজরুল ইসলাম বলেন, আমি যখন বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার জন্য যায় তখন ৪দিন উধাও হয়ে যায়। তারপর ৪দিন পরে ফিরে আসি তখন মানুষের মধ্যে আমাকে নিয়ে খুব আলোচনা শোনা যায়। ৩৫ বছর ধরে আমি মানুষের জটিল রোগ থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো রোগ আমার তেল পড়া, পানি পড়া খেয়ে ভালো হয়ে যায়। আমার কাছে দূর দুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসে। আমি কোন টাকা পয়সা নেই না বিনামূল্যে আমি চিকিৎসা দিয়ে থাকি।
বাতেনুর বলেন, আমার মাথায় অসুখ আমি মেলা জায়গায় বেড়াইছি আল্লাহর রহমতে এই কবিরাজের কাছে তেল-পানি পড়া নিয়ে আমার অসুখ ভালো হয়ে গেছে।সানজেদা বলেন, আমার টিউমার হয়েছিল তেল পড়া, পানি পড়া নিয়ে ভালো হয়ে গেছে আমার উপকার হয়।আসমা বলেন, কোন জ্বালা যন্ত্রণা হলে অসুবিধা হলে, কবিরাজের কাছে আসলে তেল পড়া দেয়, পানি পড়া দেয়, ফু দেয় তাতে অসুখ ভালো হয়ে যায়।স্বপন মোল্লা বলেন, আমার খালাতো ভাই বিদেশে আছে সেখানে একজনের মাধ্যমে কবিরাজের তেল পড়া, পানি পড়া দিয়েছিলাম ব্যবহার করে এখন ভালো আছে।আজেলা বলেন, এলাকার গরু-ছাগলের সমস্যা হলে তেল পড়া, পানি পড়া নিলে ভালো হয়ে যায়। এলাকায় অনেক গরিব মানুষের সমস্যা হলে টাকা দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে কবিরাজ।রুশিয়া বলেন, আমার নাতি পেটে থেকে পায়ে সমস্যা নিয়ে জন্ম হয়। ডাক্তার দেখিয়ে কাজ হয়নি। এই নজু কবিরাজের চিকিৎসা নিয়ে নাতির পা ভালো হয়ে গেছে।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কবিরাজের চিকিৎসার ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নাই। দৈর্ঘ্য মেয়াদে দীর্ঘমেয়াদী যাদের কঠিন রোগ আছে তারা কালক্ষেপণ করে এবং পরে রোগ জটিল হয়ে গেলে আমাদের তখন আর কিছু করার থাকে না।

Leave a Reply