শ্রীপুরে মধ্যরাতে ঘর ছেড়েছিলেন কবির হোসেন, সকালে মিলল গাছের ডালে ঝুলন্ত মরদেহ

শ্রীপুরে মধ্যরাতে ঘর ছেড়েছিলেন কবির হোসেন, সকালে মিলল গাছের ডালে ঝুলন্ত মরদেহ



‎​আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে:


‎রাত ১২টা পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। পরিবারের সবার সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করে ঘুমাতেও গিয়েছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুরের টেংরা গ্রামের কবির হোসেন (৬০)। কিন্তু মধ্যরাতের কোনো এক প্রহরে সবার অলক্ষ্যে ঘর ছাড়েন তিনি। স্বজনরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও যখন তাঁর হদিস পাচ্ছিলেন না, ঠিক তখনই সকালের আলো ফোটার পর জানা গেল এক নির্মম বাস্তবতার কথা। বাড়ির পাশের আকাশমনি বাগানে তখন ঝুলছিল কবির হোসেনের নিথর দেহ।

‎​শনিবার (১৬ মে) সকালে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেংরা গ্রামের চুক্কা বাড়ি এলাকা থেকে তাঁর এই ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ। নিহত কবির হোসেন ওই গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর ছেলে। এলাকায় তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ও নির্বিবাদী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
‎​
‎​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কবির হোসেন বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র মানসিক বিপর্যস্ততা ও বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। স্বাভাবিক আচরণও করছিলেন না ঠিকমতো। ঘটনার রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর শনিবার ভোরে এলাকাবাসী মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় আকাশমনি বাগানের একটি গাছের ডালে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান।

‎​বিলাপ করতে করতে নিহতের মেয়ে রেখা বলেন,
‎”বাবা কয়েকদিন ধইরাই খুব চুপচাপ হইয়া গেছিল। কারও লগে তেমন কথা বলত না। রাতে ঘুমানোর পর কখন যে ঘর থেইকা বাইর হইয়া গেছে, আমরা কেউ টের পাই নাই। সকালে বাড়ির পাশে বাবার লাশ পাইলাম। আমাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই।”

‎​স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন ও গ্রাম পুলিশ সদস্য শরীফ মিয়া জানান, কবির হোসেনের সঙ্গে এলাকায় কারও কোনো শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না। তবে তাঁর সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক ও চুপচাপ আচরণই সবাইকে ভাবিয়ে তুলছিল।
‎​
‎​খবর পেয়ে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ জানায়, আপাতদৃষ্টিতে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‎​শ্রীপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন আলম রশিদ বলেন,
‎​”খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

‎​একটি সাধারণ মৃত্যুর আড়ালের এই মানসিক বিষণ্নতার ট্র্যাজেডি এখন পুরো টেংরা গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.