
মাহমুদুল হাসান চন্দন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত চর গোলাপনগর ঢাকা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবকাঠামোগত ও শিক্ষক সংকটের কারণে চরম অবহেলার শিকার। চর অঞ্চলের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে নিজস্ব জমি, স্থায়ী ভবন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চর গোলাপনগর ঢাকা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রোকেয়া খাতুন বলেন, স্কুলের জমিটা রেলের হওয়াতে স্কুলের উন্নয়ন থেমে গেছে। বারবার চেষ্টা করার পরেও আমাদের স্কুলের জন্য একটা বিল্ডিং বরাদ্দ পায় না। টিনশেড স্কুলের চারটা রুম নিয়ে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক সহ তিনজন শিক্ষক নিয়ে স্কুলের ক্লাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে। তার কারণে স্কুলে অভিভাবকরা বাচ্চাদের এই স্কুলে পড়াশোনা করার জন্য পাঠাতে চাই না। সামনে একটা মুরগির ফার্ম আছে এই মুরগির ফার্মের মরা মুরগি ফেলে দেওয়ার কারণে কুকুরের অত্যাচার ও দুর্গন্ধ হওয়ার কারণে অনেক সময় স্কুলের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চাই না।
এলাকাবাসী মোঃ উজ্জ্বল বলেন, আমরা কোন সভাপতীকে দেখিনা, সেক্রেটারিকেও দেখি না, ৩জন মাস্টার কে দেখি। ৩জন মাস্টার ৬টা ক্লাস কিভাবে চালাই এটা আমরা বুঝতে পারি না। আমরা বলতে গেলেই লোকজন আছে, ছাত্র আছে কিন্তু আমরা বরাদ্দ পাচ্ছিনা। এভাবে যদি স্কুল চলে তাহলে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ কিভাবে ভালো হবে। এখানে খেলার মাঠ নাই ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করবে পড়াশুনা করবে আমরা দুটোই চাই। ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে দাবি স্কুলটাকে পরিদর্শন করে একটা ব্যবস্থা করে দিতে।
এলাকাবাসী আমানুল্লাহ বলেন, আমাদের এই স্কুলে বরাদ্দ আসে কি আসে না আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পারি নাই। আমাদের এলাকার মানুষদের নিয়ে সভাপতি বা সেক্রেটারি কমিটি শিক্ষকরা কোনদিন ডাকে না আমাদের নিয়ে কখনো বসেনি। ৬জনের জায়গায় ৩জন। মাস্টাররা কোন দিন ৬জনের জায়গায় ৩জন দিয়ে কাজ করতে পারেনা। আমাদের এলাকাবাসীর দাবি স্কুলে ভালো বিল্ডিং হবে, প্রয়োজন মত শিক্ষক থাকবে, ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলার মাঠ থাকবে।
স্কুল কমিটির সাবেক সভাপতি ও পাট বীজ উৎপাদনকারী কৃষক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শাহানুর আলম সান্টু বলেন, আমাদের চাওয়া পাওয়া অনেক আগেরই। এই স্কুলের নিজস্ব বিল্ডিং বানানো, পড়ালেখার মান বৃদ্ধি করার জন্য ও ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার মাঠ দেওয়ার জন্য এবং বাউন্ডালি ওয়াল দিয়ে স্কুলের নিরাপত্তা করার জন্য আমাদের মাননীয় সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।
মোকারিমপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বারবার নির্বাচিত জনপ্রিয় মেম্বার বাবুল আক্তার বলেন, পদ্মা নদীর চরের ভিতর স্কুলটা ছিল। একসময় নদী ভাঙ্গনের কবলে পরে স্কুলটা। এলাকার সবার সহযোগিতায় টিনশেড দিয়ে রেলের জায়গার উপর স্কুলটা বানানো হয়। এখানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার জন্য প্রয়োজন মত রুম নাই, শিক্ষক নাই। পড়ালেখার মান উন্নয়নের জন্য ভালো ক্লাসরুম দরকার শিক্ষক নিয়োগ দরকার স্কুলের ছেলেমেয়েদের খেলার মাঠ দরকার সেই সাথে ভান্ডারী ওয়াল দরকার।
ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, প্রথমে স্কুলটা চরের জায়গাতে ছিল চর ভেঙে যাওয়ার কারণে স্কুলটাকে রেলের জায়গার উপরে আপাতত স্থাপন করা হয়েছে। স্কুলের বিল্ডিং বানানোর জন্য আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি আমরা সব সময় যোগাযোগ রাখছি। বর্তমান তিনজন শিক্ষক নিয়ে স্কুলটাকে চলমান রেখেছি আশা করি সামনে ভালো কিছু হবে।

Leave a Reply