গাছে গাছে কাঁঠালের সমারোহ, গ্রীষ্মের রূপে মুগ্ধ শ্রীপুর

গাছে গাছে কাঁঠালের সমারোহ, গ্রীষ্মের রূপে মুগ্ধ শ্রীপুর

মো: জনি হাসান, গাজীপুর :-

রাস্তার পাশ ও স্কুলের মাঠ, বাড়ির আঙিনা কিংবা গ্রামবাংলার বিস্তীর্ণ জনপদ সবখানেই এখন কাঁঠালগাছের সমারোহ। গাছভর্তি কাঁঠালের বাহার যেন চোখ জুড়িয়ে দেয়। কোনোটি হলুদাভ, কোনোটি বাদামি, আবার কোনোটি সবুজ রঙে সেজে প্রকৃতির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের শ্রীপুরের বর্তমান দৃশ্য এটি। যুগ যুগ ধরে কাঁঠালের জন্য দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে এ জনপদ। গ্রীষ্মের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে কাঁঠালের সমারোহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে শ্রীপুরের গ্রামীণ প্রকৃতি। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মৌসুমি এই ফলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য।

মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজ হাতে সাজিয়েছে এক অনন্য আয়োজন। কাঁঠালের ভারে নুয়ে পড়া গাছগুলো জানান দিচ্ছে সমৃদ্ধির বার্তা। গ্রামবাংলার গ্রীষ্মবরণ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে জাতীয় ফল কাঁঠাল। আর মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই স্থানীয় বাজারগুলো ভরে উঠবে রসালো ও সুস্বাদু কাঁঠালে। তখন কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে দেখা দেবে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।

শ্রীপুর উপজেলার ব্র্যান্ডিং স্লোগান হলো সবুজে শ্যামলে শ্রীপুর, মিষ্টি কাঁঠালে ভরপুর। শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের ভেতরে শোভা পাচ্ছে ভাস্কর মিলন রবের তৈরি কাঁঠালের বিশাল ভাস্কর্য। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে কাঁঠালের সবচেয়ে বড় বাজারটিও জমে গাজীপুরের শ্রীপুরে জৈনাবাজারে। প্রায় তিন মাস ধরে চলে কাঁঠালের বেচাকেনা।

শ্রীপুরের বেশির ভাগ কাঁঠাল ছোট অবস্থায় বাগান ধরে পাইকারি বিক্রি হয়ে যায়। নির্দিষ্ট দামে কিনে পরে পাইকারেরা সুবিধামতো সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী কাঁঠাল পেড়ে স্থানীয় জয়না বাজারে বিক্রি করেন। তবে এসব কাঁঠালের বেশির ভাগ পাইকারদের হাত হয়ে চলে যায় রাজধানী ঢাকা ও সিলেট সহ সারা দেশ বিদেশে।

শ্রীপুরের মাওনা, তেলিহাটি, গাজীপুর, টেংরা, গোসিংগা, রাজাবাড়ী, টেপিরবাড়ী, দারগারচালা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। অনেকেই বাড়ির আঙিনায় কাঁঠালের বড়সড় বাগান করেছেন। অনেকের ঘরের আঙিনা বা ঘরের ওপর কাঁঠাল ঝুলছে। কিছু এলাকায় শহুরে পরিবেশে দোকানপাটের আনাচকানাচে ধরে আছে বাহারি কাঁঠাল। অন্যান্য ফসলের মতো এই ফল চাষে অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয় না। তাই কাঁঠাল পাকা শুরু না হলে এ নিয়ে ব্যস্ততাও থাকে না।

কাঁঠাল চাষি সবুজ মিয়া বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাঁঠালের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আমার বাগানের প্রায় সব গাছেই প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। ফলের আকার ও মানও বেশ ভালো। এখন বাজারে যদি ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায়, তাহলে আমরা কৃষকরা লাভবান হব। কাঁঠালের ভালো ফলন দেখে অনেকেই নতুন করে কাঁঠাল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা জানান, আর এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই মৌসুমের সুস্বাদু কাঁঠাল বাজারে উঠতে শুরু করবে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনের সম্ভাবনাও ভালো। পাশাপাশি কাঁঠালের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন করে কাঁঠালগাছ রোপণে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.