
মাহমুদুল হাসান চন্দন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর কোনো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ না নিয়ে, কেবল ‘একদিন বিষ ছিটিয়ে ফটোসেশান’ করার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের এমন দায়সারা ও লোকদেখানো কার্যক্রমে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই পৌর এলাকার ড্রেন, ডোবা এবং যত্রতত্র জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা বংশবিস্তার করছে। ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর ও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। অথচ মশক নিধনে পৌরসভা বা স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ধারাবাহিক তৎপরতা নেই। সম্প্রতি লোকদেখানো একটি মশক নিধন অভিযান চালানো হলেও, তা কেবল একদিনের বিষ ছিটানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছবি প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
পৌর এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একদিনের ফটোসেশানের বিষয় নয়। মশার ওষুধ ছিটানোর পরদিন থেকেই আবার মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হতে হচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কার না করে, নিয়মিত লার্ভিসাইডিং না করে কেবল ছবি তোলার জন্য বিষ ছিটিয়ে জনগণের ট্যাক্সের টাকার অপচয় করা হচ্ছে।”
চিকিৎসকদের মতে, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু উড়ন্ত মশা মারার ফগিং যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত লার্ভিসাইডিং (লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ) এবং উৎসস্থলগুলো স্থায়ীভাবে পরিষ্কার করা। কিন্তু ভেড়ামারার অধিকাংশ ওয়ার্ডের ড্রেনগুলো আবর্জনায় নাকাল হয়ে আছে, যা এডিস মশার নিখুঁত প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে এই লোকদেখানো ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বন্ধ করে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় ভেড়ামারায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পৌর প্রশাসক বলছে, আগামীকাল থেকে কার্যকর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখতে পাবেন।

Leave a Reply