
সামসুল হক জুয়েল, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন ধান, মরিচ আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় বিনামূল্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের বীজ, রাসায়নিক সার এবং ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষে মুদি দোকান, অটোরিক্সা বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের আয়োজনে বীজ ও সার এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় মুদি দোকান ও অটোরিক্সা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১৮শ প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে বিনামূল্যে ৫ কেজি রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার, ১০০ জন কৃষকের মাঝে ১০ গ্রাম করে গ্রীষ্মকালীন হাইব্রীড মরিচ বীজ, ৫ কেজি করে ডিএপি এবং এমওপি সার বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে উপজেলার মূলগাঁও গ্রামের সিরাজ উদ্দিনকে একটি মুদি দোকান, কাপাইস গ্রামের মোসা. কামরুন্নাহার, পুনসহি গ্রামের শামসুন নাহার ও চৌড়া গ্রামের মারজিয়া বেগমকে একটি করে অটোরিক্সা বিনামূল্যে প্রদান করেন।বিতরণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা সরকারের এই কৃষি-বান্ধব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, এই সহায়তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। এরপর প্রধান অতিথি উপস্থিত কৃষকদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকারের এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় একটি মুদি দোকান ও তিনটি অটোরিক্সা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এসব যথাযথভাবে ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো ও কর্মসংস্থানের আহ্বান জানান।

Leave a Reply