
শহিদুল ইসলাম শাওন শেরপুর(বগুড়া)
বগুড়ার শেরপুরে বাঙালি নদী থেকে অবৈধভাবে ফের বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতাদের নাম ভেঙে বেশ কিছুদিন যাবত রাতের আঁধারে উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাঁজর( উত্তর পাড়া) গ্রামে বাঙালি নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অব্যাহতভাবে এই বালু তোলা হচ্ছে। এতে করে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসীদের অভিযোগ, খামারকান্দি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোস্তাক দীর্ঘদিন ধরে মাটি-বালুর ব্যবসা করেন। বাঙ্গালী নদীর একাধিক স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকেন। তিনি নিজেকে এতটাই ক্ষমতাধর মনে করেন যে স্থানীয় প্রশাসন তার অবৈধ বালুর পয়েন্টে অভিযান চালিয়েও থামাতে পারবে না বলে এলাকায় প্রচার চালান । তিনি আরও জানান, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তিনি বালু উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদী তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, ওরা সবাইকে ম্যানেজ করেই সব কাজ করে থাকেন। তাই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলেও তাদের কিছুই হয় না। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর আগেই জানতে পারেন। তাই অভিযানের খবর শুনেই বালু উত্তোলনের সব সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেন। ফলে অভিযানকালে ঘটনাস্থলে কাউকেই পাওয়া যায় না। কিন্তু অভিযানের দুই-একদিন পরই ফের বাঙালী নদীতে ড্রেজার বসিয়ে তারা বালু উত্তোলন শুরু করেন বলে দাবি করেন তারা। সম্প্রতি টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকে ও স্থানীয় বাজারে লাঠি সোটা নিয়ে বসে থাকে বাজারে আসলে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়া হবে।
বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোস্তাক বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, একটু নিচু জায়গা ভরাট করার জন্য বালু তোলার কাজ নিয়েছি। আপনারা একটু সহযোগিতা করলে কাজটা সহজ হয়। আমি মাটি-বালুর ব্যবসা করি। এটিতো কোনো অবৈধ ব্যবসা নয়। তাই দোষের তো কিছুই দেখছি না বলে মন্তব্য করেন তিনি। খামারকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কায়কোবাদ জানান,ঝাঁজর এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের কথা শুনেছি। এর আগে এখান থেকে ভালো উত্তোলন করা হয়েছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে । দলের নাম ভেঙ্গে কোন নেতাকর্মী এ ধরনের অবৈধ কর্মকান্ড চালালে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু জানান, বাঙালি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে এই কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply