জনপ্রিয়তায় শীর্ষে জনি, তবুও নির্বাচনের বাইরে রাখার নীলনকশা

জনপ্রিয়তায় শীর্ষে জনি, তবুও নির্বাচনের বাইরে রাখার নীলনকশা

মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি

নওয়াপাড়ায় বিএনপির ভেতরে অদৃশ্য দ্বন্দ্ব, ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
যশোরের শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর নওয়াপাড়ায় আসন্ন পৌর নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দলটির জনপ্রিয় নেতা ও নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (পদ স্থগিত) মো. আসাদুজ্জামান জনিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয়, এমন অভিযোগ উঠেছে তার পক্ষ থেকে।


সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে জনি দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তৃণমূলের আস্থা অর্জন করেছেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি,এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অথচ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে আমার পদ স্থগিত করা হয়। এখন নির্বাচন সামনে রেখে আমাকে পরিকল্পিতভাবে দূরে রাখার অপচেষ্টা চলছে। জনির এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সমর্থকদের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।


বিভিন্ন পোস্ট, স্ট্যাটাস ও মন্তব্যে নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখছেন, জনপ্রিয় নেতাকে বাদ দিয়ে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। দলের দুঃসময়ের সৈনিককে অবমূল্যায়ন কেন? স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত,স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নওয়াপাড়ায় জনির জনপ্রিয়তা এবং তৃণমূল পর্যায়ে তার শক্ত অবস্থানই তাকে টার্গেট করার মূল কারণ হতে পারে।


তাদের ভাষ্য, জনিকে বাদ দিলে দলের ভোট ব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সমাধান না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে দলের ভেতরের অদৃশ্য বাধা, একাধিক নেতা-কর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, জনি দীর্ঘদিন ধরে দলের দুর্দিনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। হামলা-মামলা, দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন।কিন্তু এখন দলের ভেতরের একটি অংশই তার প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


আগামী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা নেতাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, জনিকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিলে তৃণমূলের বড় একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারে, এতে দলের সামগ্রিক ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নওয়াপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, জনপ্রিয়তা নাকি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, কোনটি নির্ধারণ করবে প্রার্থিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.