
স্টাফ রিপোর্টার
তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কোন কর্মচারী নন। ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সরদার। তিনিই যেন টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের হর্তাকর্তা। বলছি গাজীপুর মহানগরের শহীদ নিয়ামত সড়ক এলাকার বাসিন্দা মৃত মুজাফফর হোসেনের ছেলে আলী হোসেনের কথা। নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কোনো কর্মচারী না হয়েও টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল অফিসে নিয়মিত বসেন ২ বছর ধরে। তার ভাবখানা দেখলে মনে হয় তিনি অফিসের বড় কোন কর্মকর্তা। অফিসে ঢুকলেই নজরে পড়েন আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তি। হাতের সামনে কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করার ভঙ্গি দেখে যে কেউ তাঁকে বড় কোনো কর্মকর্তা মনে করবেন। অথচ সরকারি নথি অনুযায়ী, আলী হোসেন নামে কোনো ব্যক্তি টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল অফিসে নিয়োগপ্রাপ্ত নন। এর পেছনেই বসেন নামজারি সহকারী আশাদুল হক। শুধু অফিসের ভিতরেই নয় অফিসের বাইরেও আলী হোসেনের রয়েছে আলাদা দালাল চক্র। কাজ তাদের খারিজ বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তার ডানহাত হিসেবেই কাজ করেন আলী হোসেন। অথচ তার নেই কোন সরকারি নিয়োগপত্র। এ যেন মামু বাড়ির আবদার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নামজারী, খাসজমি বন্দোবস্তি জমা খারিজ ও জমা একত্রীকরন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে দেয়ার কন্ট্রাক্ট নিয়ে পাইকারী ধান্দাবাজি করে মাত্র দুই বছরের মাথায় আলাদিনের চেরাগ বনে গেছেন আলী হোসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয়ে সরকার নির্ধারিত টাকা ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া মিলছে না ভূমি সেবা। অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কারণ টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল কর্তৃপক্ষের চোখের সামনে সবকিছু ঘটলেও এক আলী হোসেনকে ছাড়া কোন কাজ হয়না এই অফিসে। অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
তবে সেবা প্রার্থীরা জানিয়েছেন গত মাসে গাজীপুরের বিভিন্ন ভূমি অফিসে দালালদের ধরতে জেলা প্রশাসকের অভিযান চললেও সার্ভেয়ার রফিকুল ইসলাম, নামজারি সহকারী আশাদুল হকের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন আলী হোসেন।নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী ছাড়া অফিসের ভিতরে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বাইরের লোক কাজ করার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ) মোঃ সোহেল রানা বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ হাসিবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এদিকে অভিযুক্ত আলী হোসেনকে বার বার ফোন করলেও কোন সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার রফিকুল ইসলাম, নামজারি সহকারী আশাদুল হকের যোগসাজশে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল পর্যন্ত অফিস করেন আলী হোসেন। অফিস চলাকালে সমস্ত কাজেই আলী হোসেনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায়।

Leave a Reply