
আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর):
গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাকশ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুকে ঘিরে উদ্ভূত শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে নতুন করে পুলিশ ও শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে টেপিরবাড়ি এলাকায় নিহত শ্রমিকের মিলাদ মাহফিলে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিল্পাঞ্চল জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, গত বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ কারখানায় কর্মরত অবস্থায় লিজা আক্তার (৩৬) অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, কারখানা কর্তৃপক্ষ সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় লিজার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
নিহত লিজার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে শনিবার সকালে প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনার কথা ছিল। একই সময়ে লিজার আত্মার মাগফিরাত কামনায় টেপিরবাড়িতে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন সহকর্মীরা। শ্রমিকরা সেখানে সমবেত হলে পুলিশ তাদের ওপর অতর্কিত গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১২ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
লিজার মৃত্যুর পর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। লিজার মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষী কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা খরচের দাবির পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কড়া অবস্থানে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহত লিজা আক্তার পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলা গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়ার স্ত্রী ছিলেন।

Leave a Reply