বাউবি উপাচার্যের সাথে ‘স্কুল অব ল’-এর শিক্ষার্থীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ: বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে স্মারকলিপি পেশ
নজমুল হক, গাজীপুর:
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব ল’-এর একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকাস্থ উপাচার্যের কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর কর্মকালের সফলতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে এক আন্তরিক পরিবেশে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীরা ‘স্কুল অব ল’-এর বর্তমান একাডেমিক অবস্থা এবং মাঠপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ফেস করা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা সংবলিত একটি স্মারকলিপি উপাচার্যের নিকট পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লিখিত প্রধান দাবিসমূহ হলো:
করোনা পরবর্তী সময়ে এবং প্রশাসনিক কারণে সৃষ্ট সেশনজট দ্রুত কমিয়ে এনে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা।শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে আধুনিক ক্লাসরুম ও প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নিশ্চিত করা।আইন পেশার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অতিদ্রুত ‘মুট কোর্ট’ (Moot Court) ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে একটি ‘ডিবেট ক্লাব’ চালু করা। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনা।ল’ স্কুলের জন্য সমৃদ্ধ একটি বিশেষায়িত লাইব্রেরি বা রিডিং রুমের ব্যবস্থা করা।
শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবি অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগের সাথে শোনেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক চিন্তাভাবনার প্রশংসা করেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন:
”বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উচ্চশিক্ষা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা সর্বদা অব্যাহত থাকবে। স্মারকলিপিতে উল্লিখিত বিষয়গুলো আমি সংশ্লিষ্ট স্কুলের ডিন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মুট কোর্ট এবং ডিবেট ক্লাবের মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি এবং এগুলো চালুর ব্যাপারে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় ‘স্কুল অব ল’-এর বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের আশার সঞ্চার হয় এবং তারা উপাচার্যের গতিশীল নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে, উপাচার্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Leave a Reply