আশিকুর রহমান সবুজ, গাজীপুর
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মা, তিন শিশু সন্তান ও তাদের মামা হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি মরদেহের পাশেই মিলেছে কম্পিউটারে টাইপ করা একটি করে লিখিত অভিযোগপত্র। যা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত প্রতিটি মরদেহের ওপর রাখা কাগজে একই বক্তব্য সম্বলিত একটি অভিযোগপত্র ছিল। অবাক করার বিষয় হলো, অভিযোগপত্রটি লেখা হয়েছে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর। তবে এই অভিযোগপত্রটি থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছিল কি না বা গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাজীপুর জেলা পুলিশের কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা কাগজপত্রগুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই করছি। এগুলো কি কোনো প্রকৃত অভিযোগপত্র নাকি তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
প্রাথমিকভাবে ওই অভিযোগপত্রগুলোতে পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়ার ইঙ্গিত পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের অভিযোগ ছিল। তবে পুলিশ এখনই এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গভীর রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া। নিহতরা হলেন— ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তাদের তিন কন্যা মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল (২২)।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন ফোরকান মিয়া। পুরো গাজীপুর জেলাজুড়ে এখন এই ‘রহস্যময় অভিযোগপত্র’ ও ৫ খুনের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে।

Leave a Reply