
নজমুল হক, স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর
প্রথমবারের মত আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থা। প্রতিযোগিতায় দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করছে। নারী ও পুরুষ বিভাগে চারজন করে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আটজন খেলোয়াড় এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯ জুন শুক্রবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনদিনের এ প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এসময় তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়ান। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর ও আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতা পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক ও আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শফিউল করিম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, বিশ্ব ক্রীড়ায় বাংলাদেশের অবস্থান বেশ দুর্বল। কারণ এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হয়নি। এরইমধ্যে নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে দেশের ছেলেরা ক্রিকেট এবং মেয়েরা ফুটবলে অগ্রগতি লাভ ও দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে।
প্রফেসর আমানুল্লাহ বলেন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সুনাগরিক তৈরি এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা যায়। এজন্য বর্তমান সরকার ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। যা তাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, বর্তমান সরকারের লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় খেলাধুলাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতে অন্যান্য ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং এই দুই খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজসমূহের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার জন্য যা যা করার দরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা করবে। তিনি বলেন, যে সকল শিক্ষার্থী খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ হবেন তাদের দেশে ও দেশের বাইরে প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ গ্রহণে সহায়তা করা হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা অনেক। তাই তাদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত “আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতা ২০২৫-২০২৬” এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও অংশ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
তিন দিনের এ “আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতা ২০২৫-২০২৬” শেষ হবে আগামী রবিবার। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিগণ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, বিভাগীয় প্রধান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply